শিশুর টিফিনে কী দেবেন?

আসফি মোহাম্মদঃ বাড়ন্ত বয়সের শিশু-কিশোররা দিনের অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়। তাই স্কুলের টিফিন যেনতেন হওয়া চলবে না। টিফিনের খাবারে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিনস ও মিনারেলসসহ সব পুষ্টি উপাদান সুষম পরিমাণে থাকতে হবে। তবেই শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আসফি মোহাম্মদ

স্কুলের সময়সূচি অনুযায়ী স্কুলের টিফিন নির্বাচন করতে হবে। সকালের শিফটের শিশু-কিশোরদের টিফিন হতে হবে নাশতাজাতীয় এবং দুপুরের শিফটের জন্য টিফিন হতে হবে একটু ভারি খাবার যেন দুপুরের খাবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। স্কুলগামী শিশুদের টিফিনে এমন খাবার দেওয়া উচিত যা মুখরোচক, সুষম, স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিকর এবং উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে দৈনন্দিন এই খাবারে থাকা চাই বৈচিত্র্য, ভিন্নতা ও নতুনত্ব। টিফিনে ফল ও সবজির প্রাধান্য দিতে হবে। এতে করে বাড়ন্ত শিশুদের দেহের ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ হবে। বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন—পেয়ারা, পাকা পেঁপে, নাশপাতি, আম, বড়ই এবং কমলা, আপেল, আঙুর হতে পারে টিফিনের জন্য উত্তম। ড্রাই ফ্রুটস যেমন—কিশমিশ, বাদাম ইত্যাদিও টিফিনে দেওয়া যেতে পারে। গাজর, শসা, টমেটো মিশিয়ে ফলের সালাদ তৈরি করতে পারেন।

অনেক শিশু সকাল বেলা কিছু খেতে চায় না। এ ধরনের শিশুদের টিফিনে শর্করা জাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন। কারণ শর্করা জাতীয় খাবার দেহে শক্তির জোগান দেয়। নুডলস, ফ্রাইড রাইস, স্যান্ডউইচ খাওয়ানো যেতে পারে টিফিনে। বিভিন্ন ধরনের কেক, মিষ্টি, পিঠাও টিফিন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাইরের শিঙাড়া-সমুচার পরিবর্তে ঘরে তৈরি শিঙাড়া-সমুচা টিফিনে দেওয়া যেতে পারে। ডিম, মুরগির মাংস দিয়ে টিফিন তৈরি করা যেতে পারে, যেমন—ডিমের পুডিং, মাংস দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের বিন জাতীয় খাবার যেমন—মটর, শিমের বীজ সিদ্ধ, যাতে প্রচুর আমিষ রয়েছে টিফিন হিসেবে খাওয়া যায়। সুজির পায়েস, ওটস দিয়ে তৈরি খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত। আজকাল বাজারে বিভিন্ন রকমের দই পাওয়া যাচ্ছে যা টিফিনে খাওয়া যায়।

টিপস

  • শিশুর পছন্দের খাবারের তালিকা তৈরি করুন। সে অনুযায়ী একেক দিন একেক ধরনের খাবার বানিয়ে দিন।
  • টিফিনে রঙিন ফলমূল সবজি ব্যবহার করুন। এতে শিশুদের খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হবে।
  • টিফিনের জন্য যে বক্সটি ব্যবহার করবেন তা যেন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয়।
  • গরম খাবার টিফিন বক্সে ঢুকিয়ে শক্ত করে মুখ বন্ধ করলে অল্প সময়ে খাবার নষ্ট হয়ে যায়। তাই বক্সে ঢোকানোর আগে খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণ ঠান্ডা করে নিতে হবে।
  • বাইরের এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার টিফিনে দেওয়া উচিত নয়। কারণ ফাস্টফুডে ব্যবহৃত পনির বা চিজ, মেয়নিজ অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে পরবর্তী জীবনে ওজন বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • টিফিন বক্সের সঙ্গে অবশ্যই খাবার পানিও বাসা থেকে দিয়ে দেবেন। পানির পাশাপাশি ঘরে তৈরি ফলের জুস, লাচ্ছি বা মিল্কশেক বানিয়ে দিতে পারেন।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ,এভারকেয়ার হাসপাতাল, চট্টগ্রাম

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৩/২৩