শিক্ষিত তরুণরা কৃষি খামার করলে দেশ আরও উন্নত হবে

নিউজ ডেস্ক।।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. বেনজীর আলম বলেছেন, এক সময় ছিল যা চাষ করব নিজের হলে চলবে, সেই খোরপোশ পদ্ধতির খামার এখন আর নেই। এখন বেশির ভাগ কৃষকরাই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদে ঝুঁকছে।

এখন অনেক শিক্ষিত তরুণরাও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক কৃষিখামার গড়ে তুলছে। বেকার বসে না থেকে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি খামার করলে দেশ আরও উন্নত হবে।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা এলাকার প্রকৌশলী শেখ ফয়সাল আহমেদের মধুমতি এগ্রো ফার্ম পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. বেনজীর আলম ফয়সালের এগ্রো ফার্মে আসেন। ফয়সালের বিভিন্ন ক্ষেত পরিদর্শন করেন। মালচিং পদ্ধতিতে করা টমেটো ও নালা পদ্ধতিতে চাষ করা ফিলিপাইনের আখের প্রশংসা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ এমদাদুল হক, অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, কৃষিবিদ মো. ফরিদুল হাসান, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান, মধুমতি এগ্রোর স্বত্বাধিকারী শেখ ফয়সাল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিবিদ মো. বেনজীর আলম আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে সারাবিশ্বে এক ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশে এই সংকট তৈরি হবে না। কারণ উন্নত কৃষি ব্যবস্থা তৈরি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার নানারকম উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বছর বিভিন্ন রকমের সারে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে দেশে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। ভবিষ্যতে দেশে খাদ্য শস্য ও সবজির উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা গ্রামের শেখ টিপু সুলতানের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ। খুলনা পলিটেকনিক থেকে ২০১০ সালে ম্যাকানিক্যাল ট্রেডে ডিপ্লোমা পাশ করেন, বেসরকারি চাকরি শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২০ সালে ৪৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে মধুমতি নদীর পাড়ে চর উদয়পুর ও গাড়ফা এলাকায় চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথম দিকে নিজস্ব জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। পরবর্তীতে সাম্মাম চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই সফলতা পাওয়ায় জমির পরিমাণ বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে ফয়সালের ক্ষেতে বাহুবলী জাতের আগাম টমেটো, লালশাক, ফিলিপাইনের কালো আখ, সাম্মাম, টপলেডি জাতের পেঁপে, ব্লাক বেরি বারোমাসি তরমুজ, বেগুন, শসাসহ নানা জাতের সবজি ও ফল রয়েছে।