শিক্ষার প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ২৬ মার্চ ২১

অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তিতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে। একটি জাতির জন্য পঞ্চাশ বছর যদিও খুব একটা কম সময় নয়। কিন্তু বাংলাদেশের এই পথচলা কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। সামরিক স্বৈরশাসন, হত্যা, ক্যু, গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এমন কি রক্তের আঁখরে লেখা এই বাংলাদেশের জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এ সময়ের মধ্যে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই বীর বাঙালি জাতি অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। শত প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে বিগত পঞ্চাশ বছরে আমাদের অর্জনও একেবারে কম নয়। বিশেষত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১২ বছরে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, মৃত্যু হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি ইত্যাদি প্রতিটি উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এখন ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

কোভিড-১৯, বৈশ্বিক করোনা মহামারি মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল।
অনুন্নত অবস্থা থেকে স্বল্প আয়ের দেশ এবং অতিসম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ঘোষণা এ সময়ের মধ্যেই লাভ করেছে।

একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান সোপান শিক্ষা। বাঙালি জাতি দুইশত বছর বৃটিশদের শোষণ, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বৃটিশরা কোনো ভাবেই চায়নি বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। সেই জন্য তারা শিক্ষা দীক্ষায় আমাদের পিছিয়ে রেখেছিল। বৃটিশরা শুধুমাত্র তাদের প্রয়োজনে আমাদের দেশের কিছু কেরানি তৈরি করেছিল। মূল শিক্ষার উন্নয়নে তারা নজর দেয়নি।

১৯৪৭ সালে বৃটিশদের শৃঙ্খল মুক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও বাঙালি জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানিরা আমাদের তাদের কলোনি বানিয়ে রাখতেই সদা তৎপর ছিল। তারাও বৃটিশদের মতো বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তান সরকার পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করেছিল। বিশেষ করে তারা যে শিক্ষা ক্ষেত্রে পাহাড়সম বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল নিম্নের পরিসংখ্যান থেকে তা সহজেই অনুমেয়।

১৯৪৭-৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৮৪১৪টি, ১৯৬৮-৬৯ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৯৪১৮টি। অপরদিকে ১৯৪৭-৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ২৯৬৬৩টি অথচ ১৯৬৮-৬৯ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ২৮৩০৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯৪৭-৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ২৫৯৮টি এবং পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩৪৮১টি। ১৯৬৫-৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪৭২টি অথচ পূর্ব পাকিস্তানে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৬৪টি। ১৯৪৭-৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে কলেজের সংখ্যা ছিল ৪০টি। ১৯৬৮-৬৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭১টি। ১৯৪৭-৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কলেজ ছিল ৫৩টি ১৯৬৮-৬৯ সালে ছিল ১৬১টি। ১৯৪৭-৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ০২টি থেকে ১৯৬৮-৬৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ০৬টি এবং একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ০১টি থেকে বেড়ে ১৯৬৮-৬৯ সালে ছিল ০৪টি। অথচ পাকিস্তানে বাঙালি জনগোষ্ঠী ছিল ৫৬%। পাকিস্তানিরা মনে করতো শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে গেলে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। এজন্য তারা সবসময় শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে বাঙালিদের দাবিয়ে রাখতে তৎপর ছিল।

বাংলাদেশে শিক্ষার সূচনা হয়েছিল মূলত রাজা-বাদশা, জমিদার-জোতদার ও সমাজের উচ্চবিত্ত বরেণ্য শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে। তাদের পরিবার কেন্দ্রিক পাঠশালার মাধ্যমে মূলত এ দেশের প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত রচিত হয়। এভাবেই আমাদের দেশে শিক্ষার বিস্তৃতি ঘটে। সে সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোনো বেতন ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৪৪ সালে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত এক শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে তদানিন্তন শিক্ষামন্ত্রী স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ৫ টাকা বেতন চালু করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে শিক্ষকদের মাসিক বেতন ২০ টাকা ধার্য করা হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আমৃত্যু স্বপ্ন ছিল শত বছরের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত, বৈশিষ্ট্যে শঙ্কর, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এ গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের স্বাধীনতাকামী বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী তথা ‘বাঙালিদের’ জন্য একটি শোষণহীন অসামপ্রদায়িক চেতনার সমতাভিত্তিক আদর্শ সমাজ তথা সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য প্রয়োজন ছিল সুশিক্ষায় শিক্ষিত, দেশপ্রেমে উদ্বৃত্ত মানসিকতা সম্পন্ন নাগরিক বা সোনার মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন স্বপ্নের সমাজ নির্মাণের উপযুক্ত সোপান হচ্ছে শিক্ষা। প্রকৃত শিক্ষাবিহীন জাতি কখনো স্থায়িত্বশীল উন্নতি লাভ করতে পারে না। শিক্ষা হচ্ছে সে শক্তি বা নিরন্তন প্রক্রিয়ায় যা পশুবৎ ব্যক্তির সুকুমার বৃত্তি, মুক্ত চিন্তা-চেতনা, মেধা-মনন ও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে ব্যক্তিকে জীবন যুদ্ধে উপযোগী, দক্ষ কর্মী, আত্মপ্রত্যয়ী, স্বাবলম্বী তথা মানবিক করে তুলে। এ দৃঢ় বিশ্বাস থেকে বঙ্গবন্ধু চরম আর্থিক সংকট সত্ত্বেও শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার একান্ত ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার ফসল হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘কুদরত এ খুদা’ শিক্ষা কমিশন গঠন।
১৯৭০ নির্বাচনী ভাষণে সমাজ জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর হতে পারে না। জাতীয় উৎপাদনের শতকরা কমপক্ষে চার ভাগ সম্পদ শিক্ষা খাতে ব্যয় হওয়া প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করেন।

১৯৭৪ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন “একদিন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে আমাদের ভাষা সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মর্যাদাকে দেশে এবং বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অবশ্যই সেখানে শিক্ষার ভূমিকা সব চাইতে বড়। একটি সুষ্ঠু জাতি গঠনে শিল্প, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যান্য সংস্কৃতির যেমন উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তেমনি প্রয়োজন শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা। বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করতে পারে সঠিক শিক্ষা”।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারই পাকিস্তানি শাসন-শোষণে সৃষ্ট বৈষম্যে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রথম রাষ্ট্রীয় বাজেটের আকার ছিল আটশ’ কোটি টাকা। সেই বাজেটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ লাখ ৬২ হাজার শিক্ষক জাতীয়করণের আওতাভুক্ত হয়। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সরকারই বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মাসিক বেতন ১০০ টাকা এবং স্কুল শিক্ষকদের বেতন ৭৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেয়া শুরু করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার এ দুঃসাহসী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে জাতি গঠন পর্বই সূচিত হয়নি, ‘ইউনেস্কো’ তথা জাতিসংঘ শিক্ষা সনদ বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মমুখী শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষা এবং পলিটেকনিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি তখনই অনুধাবন করেছিলেন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বাঙালি জাতির উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার গোড়াপত্তনও বঙ্গবন্ধু সরকারই করেছিল। ২৪শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, বাংলা ভাষায় জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “আমরা তাকাবো এমন এক পৃথিবীর দিকে যেখানে বিজ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে মানুষের সৃষ্টির ক্ষমতা ও বিরাট সাফল্য আমাদের জন্য এক শঙ্কামুক্ত উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সক্ষম”।

১৯৭৫ এর পনের আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসকে বদলে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বিকৃত ইতিহাস শেখানো হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। বাঙালির সৌরবের, গৌরবের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে একটি প্রজন্ম।

আশির দশকে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস, খুনোখুনির ঘটনা ঘটতে থাকে। সে সময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নকল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকল সরবরাহ একটি উৎসবে পরিণত হয়। নকল প্রতিরোধ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অনেক স্থানে হতাহতের ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। এ ছাড়াও দীর্ঘ দিন সামরিক স্বৈরশাসকদের ক্ষমতা অপব্যবহার, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি লাভ করতে পারেনি।

বর্তমান সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ব্যাপক অবকাঠামো ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির পাশাপাশি, পোশাক ক্রয়ের জন্য নগদ টাকা প্রদান, দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এসব কারণে শিক্ষার প্রতি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিক্ষা হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় ৯৭% শিক্ষা বেসরকারি খাতে পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব দিক বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদেরও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করায় সরকারি অনুরূপ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনও শতভাগ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের অনুরূপ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট, ২০% বৈশাখী ভাতা, কল্যাণ ও অবসর বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ, মেডিক্যাল ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি প্রভৃতি। ফলে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের আর্থিক সচ্ছলতা বেড়েছে। এ কথা অনস্বীকার্য বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষা খাতে গত ১২ বছরে যে উন্নয়ন করেছে এর আগে বিগত ৩৮ বছরেও তা হয়নি।

তথাপিও বেসরকারি শিক্ষা খাতে এখনো অনেক সমস্যা বিরাজমান রয়েছে। যেমন এখনো একটি বিশাল অংশ এমপিও বিহীন রয়েছে। এখনো বাড়ি ভাড়া, মেডিকেল ভাতা ও উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং কমিটি কিংবা ম্যানেজিং কমিটিকে এতই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যে, কমিটির কর্মকর্তারা চাইলেই প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ যে কোনো শিক্ষক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কারণেও অনেককে চাকরি হারাতে হয় এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা বাড়তি একটা চাপে থাকতে হয়। ফলে এর প্রভাব পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করার জন্য এসব দিক সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। যেকোনো মূল্যে কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। জাতির জনকের শিক্ষা ভাবনা বা দর্শনকে যথাযথ গুরুত্ব এবং সম্মান দেয়ার তাগিদে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সর্ব বৈষম্য দূরীকরণ পূর্বক শিক্ষাকে একটি অভিন্ন চেতনামুখী করতে হবে।
(লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা, সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, সচিব-শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.