শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ বাতিল হচ্ছে স্কুলের পরীক্ষা

প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ, রবি, ২১ মার্চ ২১

নিউজ ডেস্ক।।

করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সব মহলেই বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। চলতি মাসের শেষে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব ক্লাসের পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্ত করার পর এখন করোনার কারণে সেখানেও কাটছাঁট করা হচ্ছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিস্থিতির বিবেচনায় গত বছরের মতো এবারো প্রথম দফায় স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত বা বাতিল করার ঘোষণা আসতে পারে।

সূত্র জানায়, নিয়মমতো বছরের মে বা জুন মাসে স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু এ বছর যেহেতু এখনো স্কুল খোলার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি তাই এই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে যেকোনো সময়ে। আবার দীর্ঘ সময়ে স্কুল খোলা সম্ভব না হলে গত বছরের মতো মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপরের ক্লাসে তুলে দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষাও বাতিল করার ঘোষণা আসতে পারে।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে মাঝখানে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আগামী ৩০ মার্চ স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনা মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শুরু হয়। কিন্তু এরই মধ্যে চলতি মাসের শুরু থেকে আবারো বাড়তে থাকে করোনার প্রাদুর্ভাব। তাই নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

অবশ্য শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপরেই স্কুল-কলেজ খোলার দাবি জানিয়ে আসছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু নয়া দিগন্তকে জানান, স্কুল-কলেজ খোলার আগে সরকারকে আরো বেশি ভাবতে হবে। হুটহাট করে স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। কেননা এখানে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। তাই আমরা দাবি জানিয়েছি, সব শিক্ষর্থী এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভ্যাকসিনের আওতায় এনে তারপরেই স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। অন্যথায় নয়।

এ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মতো এ বছরও যাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে না রাখতে হয় সে জন্য বছরের শুরু থেকেই পরিকল্পনা নেয়া হয়। গত জানুয়ারি মাস থেকেই চলতি বছরে পিছিয়ে পড়া প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক সিলেবাস রিভিউ করে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার কাজ শুরু হয়। এখন সেই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও কাটছাঁট করে আরো ছোট করা হচ্ছে। এখন আবার চিন্তাভাবনা চলছে স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা বাতিল করারও। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা নিয়ে পরবর্তী ক্লাসে তোলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আগে। আমরা চেষ্টা করছি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে না এনেও কিভাবে তাদেরকে বাসায় রেখে পড়ালেখা করানো যায়। তাই শ্রেণিমূল্যায়নের পাশাপাশি আমরা বিকল্প পন্থায় পড়ালেখা চালাতে পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরো জানান, ২০২০ সালের প্রায় বেশির ভাগ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। চলতি বছরও তিন মাস চলে যাচ্ছে। তাই সিলেবাস আরো কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন- সব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীকে করোনার ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং এর পরেই খুলে দেয়া হবে স্কুল-কলেজ। সে লক্ষ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ লাখ ১০ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১০ লাখ এক হাজার জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

নেয়া হয়েছে। যদিও সরকারের হিসাব মতেই সেখানে আরো ৪২ লাখ ভ্যাকসিন কাভারেজের বাইরে থাকবেন।

এই বিশালসংখ্যক শিক্ষক, কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন কাভারেজের বাইরে রাখার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলে বর্তমান মহামারী আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে।
বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ লাখ শিক্ষার্থী, ৬০ হাজার শিক্ষক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় লাখ শিক্ষক, কিন্ডার গার্টেনের লক্ষাধিক শিক্ষক এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারীসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী মিলে শিক্ষা খাতের প্রায় ৪২ লাখ মানুষ এ সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেন জানান, শিক্ষা খাতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকাদানের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় একসঙ্গে সবাইকে এ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ধাপে ধাপে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে।সূত্রঃনয়া দিগন্ত

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.