শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে উন্নয়ন ফি নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

নেত্রকোনাঃ জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বরদল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে উন্নয়ন ফি আদায়, অশালীন আচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।

কর্মস্থলে সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার পর অবৈধভাবে যোগদানসহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেলিমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনও দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ১০০০ টাকা করে উন্নয়ন ফির নামে অর্থ গ্রহণ, এই টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, স্কুলের তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ক্রয় করে স্কুলের ফান্ডে টাকা ফেরত না দেওয়া ও ভুল তথ্য দিয়ে বেআইনিভাবে বিদেশ গমন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বরদল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্দুল হেলিম যোগদানের পর থেকেই নানা সমস্যার শুরু। তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব দুর্নীতির কারণে তাকে ২০১৭ সালে ম্যানেজিং কমিটি তাকে চূড়ান্তভাবে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন বোর্ড ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন। এ সময় তিনি স্কুল কমিটির কাছে যোগদান না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্বপদে যোগদানের আবেদন দিয়ে যোগদান করেন। এ ঘটনার পর ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে যোগদান করে পুনরায় যোগদানপত্র অনুমোদন নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপর তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে যোগদান করেননি।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেলিম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সব বিষয়ে প্রতিবাদ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা করেছেন প্রধান শিক্ষক। ক্লাসে বা বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ না টানিয়ে নির্বাচন দেয়ার অভিযোগ তোলেন তারা।

অভিযোগকারী অভিভাবক শামীমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে সাকিব আল হাসানকে ওই স্কুলে ভর্তি করি। ভর্তির সময় অন্যান্য ফির সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হেলিম উন্নয়ন ফি ৫০০ টাকা নেন। পাঁচ মাস পরে আবার বেতনের সঙ্গে উন্নয়ন ফি আরো ৫০০ টাকা নেন। বিষয়টি জানতে চাইলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আমাকে স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে বলে। তার ইচ্ছেমতো তিনি স্কুল পরিচালনা করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।’

জানতে চাইলে অভিযোগকারী অভিভাবক হাফিজুর রহমান আনছারী বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি যোগদান করেছেন। অব্যাহতভাবে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার পরেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হেলিম বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে আসছেন। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গফুর বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে নতুন অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৯/২০২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়