শিক্ষাবৃত্তি হাতিয়ে নিতে সক্রিয় প্রতারকচক্র

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, সোম, ৮ মার্চ ২১

নিউজ ডেস্ক।।

গুজব ছড়িয়ে সরকার ঘাষিত শিক্ষা বৃত্তি হাতিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডেকেট। সঙ্ঘবদ্ধ এই চক্রটি শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষককে বোকা বানিয়ে বিকাশ বা অন্য কোনো মাধ্যমের পিনকোড ব্যবহার করে বাগিয়ে নিচ্ছে অর্থ। গত দুই দিন ধরে এ নিয়ে আলোচনাও ছিল সর্বত্র। পরে গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সতর্কতা জারি করে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সাথে করোনাকালীন অনুদানের টাকা পেতে নাম নিবন্ধনের জন্য গতকাল পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও এই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ অনুদান প্রদানের ঘোষণায় কয়েক দিন থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠে সঙ্ঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। তারা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে করোনার টাকা মোবাইলের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এমন সংবাদ জানিয়ে গোপন পিন বা নম্বর জানতে চায়। আবার গত দুই দিন ধরেই এই চক্রটি অনেককে জানায় যে, সরকার থেকে করোনার অনুদানের টাকা দেয়া শুরু হয়েছে। এই টাকা সংগ্রহ করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ণপত্র নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ফলে অনেকেই ওই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে এলোপাতাড়ি দৌড়াতে শুরু করেন। পরে গতকাল বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করা হয়।

এ দিকে সরকারের অনুদানের অর্থ পাওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনের সময়সীমা গতকাল বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা আরেক দফা বাড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় তা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা অনলাইনের মাধ্যমে অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাস মহামারীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ অনুদানের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। তবে সেখানে টাকার পরিমাণ উল্লেখ ছিল না। তা ছাড়া নীতিমালা ও শর্ত অনুসারে সবাই আবেদনের যোগ্যও না।
গত দুই দিন ধরেই করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেয়ার গুজব দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে এমন ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়। যদিও এই গুজবে বিশ্বাস করে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় করতে দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রত্যয়নপত্র নিতে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় ভিড় করেন তারা। পরে প্রতারণা এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্কবার্তা জারি করেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে প্রতারকদের থেকে সর্তক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে বিশেষ এ অনুদানের বিষয়ে ইতঃপূর্বে কাউকে ফোন দেয়া হয়নি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন সংক্রান্ত কোনো তথ্যও চাওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র হতে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: ফজলুর রহমান জানান, দেশব্যাপী একটি সঙ্ঘবন্ধ চক্র সুকৌশলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা সবাইকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছি। একই সাথে করোনারকালীন বিশেষ অনুদান প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত ফরমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন জমা দেয়ার সময়ও বাড়ানো হয়েছে। এই সময়সীমা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.