শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১২ জানুয়ারি ২১

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে খুলে দিতে সরকারের শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নোটিশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার ভাওয়াল মির্জাপুর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে মোট ১১ বার স্কুল বন্ধের তারিখ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর সময় বাড়িয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাই ১৬ জানুয়ারি পর আর বন্ধের মেয়াদ বৃদ্ধি করলে শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা রাত দিন ইন্টারনেট-ভিডিওগেম ও টিভি দেখার বদ অভ্যাস করছেন। আবার অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই দেশের করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকায় ও ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সন্নিকটে থাকায় বন্ধের মেয়াদ আর না বাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে নোটিশে অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় সে ছুটি আরো বাড়ানো হয়। সরকারের এই নির্দেশনা অমান্য করে ভাওয়াল মির্জাপুর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম সরকার গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে ডেকে এনে পরীক্ষা নেন। এ অপরাধে তাঁকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল জাকীর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে অধ্যক্ষকে কারাগারে পাঠানো হয়।

১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ওবায়দা আলী সাংবাদিকদের জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশে দেশের সব স্কুল-কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্কুল-কলেজ এমনিতেই বন্ধ। অথচ সরকারি এসব নির্দেশ অমান্য করে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ সকালে স্কুলের প্রধান গেট বন্ধ করে পেছনের গেট দিয়ে বিভিন্ন ক্লাসের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিচ্ছিল। এ অভিযোগ পেয়ে দুপুরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও খাতা জব্দ করা হয়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই ঘটনার পর এবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে খুলে দিতে আইনি নোটিশ পাঠালেন অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম সরকার।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.