শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, সোম, ১ মার্চ ২১

নিউজ ডেস্ক।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে সরকার। আধুনিক যুগের প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ রেখেই সরকার এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বহুমাত্রিক’ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেক্সটাইল, ডিজিটাল, প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে কী কী ধরনের বিষয়ের প্রয়োজন পড়ে, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা কারিগরি শিক্ষাটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এটা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। অর্থাৎ বিষয় নির্বাচন করে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় যে ধরনের শিক্ষার গুরুত্ব বেশি, আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করে দিচ্ছি; যাতে সবাই শিক্ষাটা যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে গতকাল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ করা হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বাবদ বিতরণ করা হয়েছে বলে এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিভাগীয় সদরে একটি করে মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে। সরকার সব জেলা পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে, যাতে ছেলেমেয়েরা ঘরের খেয়ে বাবা-মায়ের চোখের সামনে থেকে পড়ালেখা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সরকার প্রাথমিকসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বর্ধিত হারে উপবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো লিঙ্গসমতা অর্জন করায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে আমি একটু বলতে চাই, দেখা যাচ্ছে যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। এবং ছেলেদের সংখ্যাটা কমে যাচ্ছে। সেটা যাতে না হয়, সেদিকে একটু নজর দেবেন। কারণ আমাদের লিঙ্গসমতাটা একটু অন্য ধরনের হয়ে যাচ্ছে। ছেলেরা কেন কমে যাচ্ছে, সে বিষয়টা একটু দেখা দরকার। আমি মনে করি অভিভাবক, শিক্ষক সবাইকে এটি দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠানের সঙ্গে পটুয়াখালীর গলাচিপা, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও বান্দরবন সদর উপজেলা সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী পরে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.