শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও নিজ আঙ্গিনায় অনিরাপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আজ নিরাপদ নয় খোদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার আশুলিয়া ও নড়াইলে শিক্ষক নির্যাতন ও হত্যার পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হবে। অপরাধীরই রাজনৈতিক কোনো পরিচয় বিবেচনায় নেয়া হবে না। অপরাধী সে অপরাধীই। তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে বিন্দু পরিমাণ ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে আশুলিয়ায় নির্যাতন করে শিক্ষক হত্যা এবং নড়াইলে একজন শিক্ষককের গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করার রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর ঘটনা সবার মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অনেক অভিভাবক ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, নিজেদের ক্যাম্পাসেই যেখানে ছাত্রীরা নিরপত্তা পায়না সেখানে আর কোথায় গিয়ে তারা নিরাপদ থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে একই কলেজের বখাটে এক ছাত্র। অন্যদিকে নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের উপস্থিতিতে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে।

এই দুটি ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সারাদেশে হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানিতে শিক্ষক সমাজ আজ নিরাপত্তাহীন। সরকারি দলের লোকেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালায়।

এটিই আজ সারাদেশের বাস্তব চিত্র। তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। শিক্ষকদের পেটানো ও হয়রানির বিচার এ সরকার করবে না। শিক্ষক হত্যা, হয়রানি, নির্যাতন বন্ধ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অচল হয়ে যাবে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শিক্ষকদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের ঘটনা ভাল লক্ষন নয়। এভাবে চলতে থাকলে সরকারই বেকায়দায় পড়ে যাবে।

দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও ঘোষনা দেন তিনি। দৈনিক নয়া দিগন্তকে এই শিক্ষক নেতা আরো জানান, বর্তমান সময়ে হত্যাসহ দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতির ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এসব ঘটনায় বর্তমান সরকারের ভাবমর্যাদা চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষা ও জাতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। মেধাবী শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

একই সাথে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতনের ঘটনায়ও দেশব্যাপী শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষ গত ১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে শারীরিক হেনস্তার শিকার হন এক ছাত্রী। ওই সময় সঙ্গে থাকা তার বন্ধুকেও মারধর করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। এ ঘটনার পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক স্থানে শুরু হয় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।