শিক্ষক বদলিতে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক।।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অরাজকতা দীর্ঘদিনের। ঘুষ, প্রভাব, তদবির, অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের সেচ্ছাচারিতা রীতিমত বদলি ব্যবস্থাকে বাণিজ্যে রুপান্তরিত করেছে। সেবার নামে বদলি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের কাছে। এবার শিক্ষক বদলিতে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিতে চলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশি কর্মকর্তারা জানান, কোনো নিয়ম ও নীতিমালা না থাকার কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় না। নিয়ম না থাকায় অনিয়মই অনেক সময় নিয়ম হয়ে যায়। একটি সিস্টেম থাকলে তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সিস্টেম না থাকার কারণে কর্মকর্তাদের ঘাড়ে দোষ পড়ে।

মাউশির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এর আগে ঢাকার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতি চালু ছিল। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি ফল নির্ধারণ হওয়ার কারণে এখন এ নিয়ে কেউ আঙ্গুল তোলে না। এর ফলে মাউশিও এসব অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছে। কারণ একটি সিস্টেম দাঁড়িয়েছে। এখন বদলির বিষয়ে যদি এমন একটি সিস্টেম চালু হয় তবে শিক্ষক বদলিতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতিও বন্ধ হবে।

সরকারি মাধ্যমিক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মাধ্যমিক শাখার পরিচালক বেলাল হোসাইনের নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে নীতিমালায় থাকতে পারে এমন ৯টি বিষয় উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিক একটি খসড়া প্রস্তুতের পর তা মাউশি মহাপরিচালকের কাছে উত্থাপন করা হবে। এরপর এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় যে ৯টি বিষয় আছে

কর্মকর্তারা বলছেন, সারা বছর মাউশিতে বদলি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এবং সারাবছরই বদলি ব্যবস্থা চালু থাকে। যেকারণে শিক্ষা ভবনে ভিড় লেগেই থাকে। এর জন্য শিক্ষকরা শুধুমাত্র একটি মাসে (ডিসেম্বর) বদলির আবেদন করতে পারবেন। নতুন শিক্ষকদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখন সরাসরি রাজধানীতে বদলির ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা বন্ধ করতে চাইছে মাউশি। তারা মনে করছে একজন নতুন শিক্ষক প্রথমে উপজেলা এরপর জেলা তারপর বিভাগীয় শহরে শিক্ষকতা করবেন।

দীর্ঘদিন যেসব শিক্ষক একই বিদ্যালয়ে কর্মরত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা রয়েছে প্রাথমিক এ সিদ্ধান্তে। মাউশি বলছে কোনো শিক্ষককে ৩ বছরের বেশি একটি স্কুলে থাকতে দেয়া হবে না। আবার কেউ অন্য কোনো স্কুলে বদলি হলে তিনিও ৩ বছরের আগে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবেন না। বদলি আবেদনেও পরিবর্তন হতে পারে। সরাসরি মাউশিতে বদলির আবেদনের সুযোগও বন্ধ করা হতে পারে।

এক্ষেত্রে উপজেলা-জেলা ও বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে বদলির আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বদলির জন্য তদবির বা কোনো চাপ প্রয়োগ করা হলে ওই শিক্ষক বিভাগীয় মামলার সম্মুখীন হতে পারেন। স্বামী ও স্ত্রীর কর্মস্থলের জন্য বদলিতে অগ্রাধিকার ও কোনো এক বিষয়ের শিক্ষককে বদলির বিধান রাখা হবে না। এছাড়াও সাধারণ কোনো বদলির আদেশ বাতিল করার সুযোগ বন্ধ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিকের সংখ্যা ৩৪০টি। এছাড়াও রয়েছে আত্তিকৃত ৩০০ বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। যার মধ্যে ৫ হাজারের বেশি সিনিয়র শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও নতুন যোগদান করেছেন দুই হাজার শিক্ষক।