শিক্ষক প্রশিক্ষণের নতুন কারিকুলামে অনিশ্চয়তায় প্রাথমিকে

অনলাইন ডেস্ক।।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে। চলতি মাসে (১২ নভেম্বর) শুরু হয়েছে জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষক তৈরির কাজ। এ জন্য জেলা পর্যায়ে বাছাই করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬ জন শিক্ষককে, উপজেলা পর্যায়ে এ সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষকরা ১৮-২২ ডিসেম্বর সারাদেশে চার লাখ শিক্ষককে একযোগে প্রশিক্ষণ দিবেন।

অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে সার্টিফিকেট অর্জনকারীরা পরে অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক আরও একটি প্রশিক্ষণ নেবেন। এদিকে, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর ও বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রশিক্ষণ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শক মোহাম্মদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, এখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ বিষয় পড়ানো হয়। সাড়ে আট হাজার আলিয়া মাদরাসায় সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক আছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে। দেড় মাস ধরে অনলাইনে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কতটা কার্যকরী হবে তা ভবিষ্যত তদারকির উপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। মেন্টর ও মনিটরিং গ্রুপের কার্যক্রম শুরুতেই ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও আশঙ্কা করছের তিনি। এই সংকট সমাধানে মেন্টর ও মনিটরিং গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি জাতীয় কমিটি করার পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ। জাতীয় পর্যায়ে এই মনিটরিং গ্রুপ মাঝেমধ্যে ঝটিকা সফরের মাধ্যমে দেখবেন শিখন প্রক্রিয়া ঠিকভাবে চলছে কিনা। এরপর তারা মতামত ও পর্যবেক্ষণ দেবেন। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি তৈরি করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এই শিক্ষাক্রম নিয়ে আশাবাদী সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম নতুন শিক্ষাক্রমের সফলতার জন্য ছয়টি পরামর্শ দেন-

১) শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি।

২) শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষকতাকে দেশের এক নম্বর পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

৩. শিক্ষা প্রশাসনকে বিশেষায়িত করা। অন্য ক্যাডার থেকে নয়, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জড়িতদেরই শিক্ষার প্রশাসনিক পর্যায়ে আনা।

৪) শিক্ষার সকল ধাপে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

৫) একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। ৬) প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার প্রতিটি ধাপ পার করার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ থেকে শুরু করে সবকিছু স্কুলেই হবে। বাসায় যেয়ে গল্পের বই বা অন্য কাজ করবে।