শিক্ষক নিবন্ধিতদের প্রত্যাশা ও দুঃখ-কথা

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২০ নভেম্বর ২০

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে সরকার ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে এন.টি.আর.সি.এ গঠন করে তার মাধ্যমে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে আসছে।তবে কালক্রমে পরীক্ষা পদ্ধতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। যেমন ১ম-৫ম পরীক্ষা গুলো ছিলো সম্পূর্ণ আলাদা।

তথা স্কুল পর্যায় একই দিনে সকালে একই আসনে আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ে এবং কলেজ পর্যায় একই নিয়মে বিকেলে আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হতো। পরবর্তীতে ৬ষ্ঠ নিবন্ধন পরীক্ষা থেকে চালু হয় এম.সি.কিউ পদ্ধতি। ৬ষ্ঠ থেকে ১১দশ নিবন্ধন পরীক্ষাগুলো এম.সি.কিউ (আবশ্যিক) ও ঐচ্ছিক(লিখিত) পরীক্ষা একই আসনে গ্রহণ করা হতো।

শুধুমাত্র দ্বাদশ নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই পিএসসি এর আদলে প্রথমে প্রিলিমিনারী টেস্ট অতঃপর প্রিলিমিনারী টেস্টে উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ প্রদান করার বিধান প্রনয়ণ করা হয়। এই বিধানের আলোকেই ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১২ জুন ২০১৫ ইং তারিখে এবং প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে। অতঃপর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ৯ নভেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে।

১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীগন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। অতঃপর চুড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নিয়োগের লক্ষ্যে ২২ অক্টোবর ২০১৫ ইং তারিখে তৎকালীন শিক্ষা সচিব জনাব এন.আই.খান স্যার কর্তৃক প্রণীত গেজেট শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। যা ইতিহাসে প্রথম ও একক গেজেট ও পরিপত্র হিসেবে মর্যাদা পায় এবং এর আলোকে মেধাতালিকাভুক্ত নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে ম্যানিজিং কমিটি তাঁদের শিক্ষক নিয়োগ প্রদান ক্ষমতা হারান এবং শিক্ষক নিয়োগের কর্তৃত্ব এন.টি.আর.সি.এ প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়।

তাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের উপজেলা ভিত্তিক মেধাতালিকা প্রনয়ণ করা হয়, সে মেধাতালিকা অনুসরণ করে উপজেলা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করার কথা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। সে পরিপত্রের আলোকেই এন.টি.আর.সি.এ সর্বপ্রথম শুধুমাত্র ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের মেধাতালিকা প্রনয়ণ করে তা (আনুষ্ঠানিক) জাতীয়ভাবে প্রকাশ করে ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ ইং। প্রত্যেক জেলা শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ডে তা প্রকাশ করার জন্য নির্দেশ দেয় এন.টি.আর.সি.এ।

তখন নিবন্ধনধারীগন নিজ দ্বায়িত্বে একটি করে মেধাতালিকার কপি সংগ্রহ করে শিক্ষক পদে যোগদানের প্রত্যাশায় প্রহর গুনতে থাকে। কিন্তু এই গেজেট ও পরিপত্রকে অগ্রাহ্য করে এন.টি. আর.সি.এ ২০১৬ ইং খ্রিস্টাব্দে শিক্ষক নিয়োগের একটি গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। গেজেট অনুযায়ী মেধাতালিকা ভুক্তদের নিয়োগ বঞ্চিত করে ১ম- ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ প্রদান করে।

তখন দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধনধারীগন নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে উক্ত গেজেট ও পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ১০ জুলাই ২০১৭ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। ১ম শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট উক্ত গেজেট অনুযায়ী মেধাতালিকাভূক্তদের কেন একক নিয়োগ প্রদান করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে রুলের উপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময়ে শুনানির পর গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে ১২ তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের গেজেট ও পরিপত্রের আলোকে ৬০ দিনের মধ্যে রিট পিটিশনারদের একক নিয়োগের আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বিভাগের মহামান্য বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং খিজির আহমেদের দ্বৈত বেঞ্চ এমন যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। অথচ এমন যুগান্তকারী রায়কে উপেক্ষা করে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে আবার শিক্ষক নিয়োগের গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, পূর্বের মত ২য় গণবিজ্ঞপ্তিতেও দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের কে নিয়োগ বঞ্চিত করে এন.টি.আর.সি.এ।

যার মাধ্যমে পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পায় এই এন.টি.আর.সি.এ-প্রতিষ্ঠানটির। ফলে নিবন্ধনধারীদের মনে দেখাদেয় বিভিন্ন প্রশ্ন, যেমন- এন.টি.আর.সি.এ-এর পক্ষে উচ্চ আদালতের রায় কে অবজ্ঞা করা কতোটা সমীচীন ছিল? আইন কি এন.টি.আর.সি.এ -এর জন্য প্রযোজ্য নয়? এন.টি.আর.সি.এ কি আইনের উর্ধ্বে? ইত্যাদি।

যদি আইনের উর্ধ্বে না হয় তাহলে অতিসত্বর গেজেট এবং ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টের প্রদানকৃত রায়ের আলোকে ১২ তম রিট পিটিশনারদের নিয়োগ প্রদান করা এন.টি.আর.সি.এ -এর সংবিধিবদ্ধ কর্তব্য বলে মনে করেন পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষক-প্রভাষক হিসেবে দাবিদার ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণগণ।
১২তম শিক্ষক নিবন্ধনে নিয়োগ বঞ্চিত মেধাতালিকায় শীর্ষে থাকা রিট পিটিশন কারীদের মধ্যে

১.মোঃ জামাল হোসাইন(প্রভাষক-রসায়ন),উপজেলাঃবালিয়াকান্দি,জেলাঃরাজবাড়ী।
২. মোঃ আফসার আলী (প্রভাষক- আরবি) উপজেলাঃ সাপাহার, জেলাঃ নওগাঁ।
৩. মোঃ সোহেল মিয়া (প্রভাষক- হিসাব বিজ্ঞান) উপজেলাঃ নান্দাইল, জেলাঃ ময়মনসিংহ।
৪. মোঃ মিজানুর রহমান (প্রভাষক – প্রাণীবিদ্যা) উপজেলাঃ পলাশবাড়ী, জেলাঃ গাইবান্ধা।
৫. মোঃ ইমরান কায়েশ (প্রভাষক -হিসাব বিজ্ঞান) উপজেলাঃ মাদারগঞ্জ, জেলাঃ জামালপুর প্রমুখ ব্যক্তিগণ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনে উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় ১ম স্থান অর্জনকারী।

উল্লেখ্য সেসময় সকল নিবন্ধনধারীদের লিখিত নম্বরের ভিত্তিতে জাতীয় ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অপর দিকে শুধুমাত্র ১২ তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের ফলাফল প্রকাশ করার পর, পরিপত্র অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ২৩ফেব্রু-২০১৬ ইং তারিখে জাতীয়ভাবে মেধাতালিকা প্রকাশ করে এন.টি.আর.সি.এ। তাই বে-সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকটের মুহূর্তে গেজেট ও মহামান্য হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের লক্ষে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের- বিশেষ করে রিট পিটিশনারদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একক নিয়োগের ব্যবস্থা করা আইনগত অধিকার বলে তারা মনে করেন।

সুতরাং বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে এবং পরিকল্পিতভাবে ও দ্রুততার সাথে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব,এন.টি.আর.সি.এ-এর চেয়ারম্যান ও মাউশির মহাপরিচালক বৃন্দদের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া অতীত জরুরী বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.