শিক্ষক দম্পত্তির যমজ শিশুর জোড়া মাথা আলাদা

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ১৮ নভেম্বর ২০

আফতাব হোসেন, পাবনা থেকে।।
পাবনার চাটমোহরের শিক্ষক দম্পত্তির যমজ শিশুর জোড়া মাথা আলাদা করা সেই শিশু দু’জনই সুস্থ্য আছে। ঢাকা সিএমএইচ-এ সফল অপারেশনের মাধ্যমে যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়ার জোড়া মাথা আলাদা করার পর তারা সুস্থ জীবন যাপন করছে বলে জানিয়েছেন শিশুদের পিতা প্রাথমিক শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম। গত ১ বছর ধরে তারা ঢাকার সিএমএইচ এ চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, এই শিশুদের ধারাবাহিক চিকিৎসা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৭ অক্টোবর হাঙ্গেরি থেকে আগত ৪ জন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে দেশের সামরিক ও অসামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শিশু রাবেয়ার অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গত ৬ দিন ধরে শিশু রাবেয়া সিএমএইচ চিকিৎসাধীন। রাবেয়া অনেকাংশেই ভাল আছে এবং প্রায় স্বাভাবিক কথা-বার্তা বলতে পারে এমনকি খেলাধুলাও করতে চায়। তবে অপর শিশু রোকেয়ার স্নায়ুগত কিছু কিছু দুর্বলতা আছে। যার কারণে সে এখনও পরিপূর্ণ কথা বলতে বা হাটতে পারছে না। তবে নিজে-নিজে খাবার গ্রহণ করতে পারছে এবং কথা বুঝতে পারছে।

২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনা জেলার অন্তর্গত চাটমোহর উপজেলার আটলংকা গ্রামের শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম এবং তাছলিমা বেগমের ঘরে জন্ম গ্রহণ করে জোড়া মাথার যমজ বাচ্চা। জোড়া মাথার যমজ শিশুর জন্য সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে বাবা-মাকে।

সংবাদটি শিক্ষাবার্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যম্যে প্রকাশ হলে এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নজরে আসে। পরে তিনি শিশুদের চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদফতরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায় ঢাকা সিএমএইচ-এ হাঙ্গেরি থেকে আগত চিকিৎসক দল এবং বাংলাদেশের সামরিক ও অসামরিক চিকিৎসকরা ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৩ ঘণ্টা বিমুক্তকরণ অপারেশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। এই অপারেশন বিশ্বের ১৭তম সফল অপারেশন ও বাংলাদেশে এই প্রথম। যা বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি মাইলফলক।

যমজ শিশুর জোড়া মাথা আলাদা করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নেয়ায় শিক্ষক দম্পত্তি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.