শিক্ষক ও সহপাঠীদের নাম ভুলে গেছে শিক্ষার্থিরা

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, রবি, ১২ সেপ্টেম্বর ২১

দীর্ঘ ১৭ মাস ২৬ দিন পর খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় বছরের মতো এই সময়ে ঘরে থেকে নিজেদের সহপাঠীদেরও ভুলে গেছেন প্রাথমিকের অনেক শিশু শিক্ষার্থী। এমনটা যে ঘটতে পারে সেটা আগেই বোঝা যাচ্ছিলো। কারণ, দেশে সাধারণত জানুয়ারিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। নতুন বইয়ের পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গেও গড়ে ওঠে সখ্যতা।

কিন্তু, গত মার্চে করোনার দাপটে যখন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন মাত্র দুই মাস ১৬ দিন নতুন সহপাঠীদের সাথে ক্লাসের সুযোগ পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এর ফলে তেমন চেনা-জানার সুযোগ পায়নি শিশু শিক্ষার্থীরা।সরেজমিনে ঘুরে ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থী তাদের সহপাঠীদের চিনতে পারেননি।
এমনকি তাদের নামও বলতে পারেননি প্রাথমিকের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতিতে এক মধুর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার সহপাঠীদের নাম বলতে পারেননি।

একই অবস্থা আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইমির। তিনি তার মাত্র দু’জন সহপাঠী ছাড়া আর কারো নাম বলতে পারেননি। এতো গেলো সহপাঠীদের কথা। অনেক শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণি শিক্ষকদের নাম-চেহারাও ভুলে গেছেন। দেড় বছর আগে দেখা শিক্ষককে তাদের কাছে মনে হয়েছে নতুন কোন মুখ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণি শিক্ষকের নাম বলতে পারেননি। তারা জানান, অল্প দিনে শিক্ষকদের সাথে তাদের চেনা শোনা হয়ে ওঠেনি। ফলে এখন তাদের নতুন শিক্ষাবর্ষের মতোই সবার সাথে পরিচয় হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, তারাও বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। মহামারীকালে শিক্ষার্থীদের সাথে কিছুটা দুরত্ব তৈরি হয়েছে স্বীকার করে তারা বলেন, এবার অন্তত দুরত্ব কিছুটা কমবে। শিক্ষক আর সহপাঠীদের সঙ্গে সময়ের দুরত্ব খুব দ্রুতই কেটে গিয়ে প্রতিটি পাঠদান কেন্দ্রে আবারো ফিরে যাবে তার চিরায়ত রূপে, এমন প্রত্যাশাই সব মহলের।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.