শিক্ষকদ্বয়ের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই স্কুল শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ক্লাশ বর্জন করে পৃথক পৃথক মানববন্ধন করেছে দুই বিদ্যালয়ের কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাদুরতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধনে ওই দুই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের  সামনে শিক্ষকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
বাদুরতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাচ্চু হাওলাদার জানান, বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন সময়ে স্থানীয় দুলাল হাওলাদার তাকে স্কুল মাঠে ডেকে নিয়ে গলাগালি করেন। গালাগালির কারন জানতে চাইলে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুলাল হাওলাদার ও তার সঙ্গীয়রা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ইটবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পলাশ মাহমুদ জানান, পার্শবর্তী স্কুলে শিক্ষকের উপর হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত হামলাকারীরা তার উপরও হামলা চালায়। এতে শিক্ষক পলাশ মাহমুদ গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত দুলাল হাওলাদার জানান, এ ঘটনা সম্পূর্ন মিথ্যা। তবে পারিবারিক জমিজমা সক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্কুল আঙ্গিনার বাহিরে একটু ঝামেলা হয়েছে। এটা কোন রাজনৈতিক ঘটনা নয় পারিবারিক ঘটনা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগষ্ট সোমবার ক্লাশ চলাকালিন সময় ১৬০ নং বাদুরতলী (০২) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাচ্চু হাওলাদারের উপর হামলাকারীরা হামলা চালায়। এসময় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। এ খবর শুনে পার্শবর্তী ৮নং ইটবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পলাশ মাহমুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত হামলাকারীরা তার উপরও হামলা চালায়। এতে ওই এলাকার পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে পরলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো.জহির উদ্দিন বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
কলাপাড়ার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল গিয়ে স্কুল বন্ধ করে দিয়ে হামলার শিকার ওই শিক্ষকদের নিয়ে আসি।
###