শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে!

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখার প্রায় শতকরা ষাট ভাগের বেশি, এ দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমরা এই জনমিতিক সুফল পেতে চাই৷

কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে বৈশ্বিক চাকরির বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে, ফলে বর্তমানের অনেক পেশাই যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি অনেক নতুন পেশা সৃষ্টি হবে যা সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই৷ এছাড়াও কোভিড-১৯ অতিমারি পৃথিবীর প্রচলিত ব্যাবস্থাগুলোকে চ্যালেঞ্জে ফেলায় মানুষের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে৷ এমন এক অনিশ্চয়তার পৃথিবীর জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে হলে শিক্ষককেন্দ্রিক, পাঠ্যবই মুখস্থনির্ভর এবং লিখিত পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যাবস্থা কিছুতেই কার্যকরী নয়৷ এসব বাস্ততবতা বিবেচনায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যাবস্থার একটা বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল৷ জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ শিক্ষাব্যাবস্থার সার্বিক পরিবর্তন এনে ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক৷ ন্যায্যতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতাসহ প্রবেশ, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করতে পারলেই কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বিশ্বনাগরিক তৈরির মাধ্যমে পরিপূর্ণ জনমিতিক সুফল অর্জন করে ২০৪১-এর উন্নত বিশ্বের পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব৷ এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা ব্যাবস্থায় কিছু বড় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ তার মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রমকে শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়নের উপায় হিসেবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে যোগ্যতাভিত্তিক করা হয়েছে৷ তার সাথে সমন্বয় রেখে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া, শিখন উপকরণ, মূল্যায়ন এবং বাস্ততবায়ন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে৷

নতুন শিক্ষাক্রমে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়াটি হলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন৷ এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী যেকোনো যোগ্যতা অর্জন করতে হলে তা চারপাশের বিভিন্ন ব্যাক্তি (সহপাঠী, অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকার লোকজন) ও উৎস (পাঠ্যবই, অন্যান্য বই, ওয়েবসাইট, প্রকৃতি, সামাজিক পরিবেশ) থেকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং তা দলে আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণ করে তার পারিপার্শ্বিক জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখবে৷ এরপরে সে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে প্রয়োগ করার জন্য দলীয় ও এককভাবে দৈনন্দিন জীবনের কোনো চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করে সমাধানের পরিকল্পনা করবে এবং তা প্রয়োগ করে দেখার চেষ্টা করবে৷ এর ফলে আগের মতো মুখস্থনির্ভর খণ্ডিত শিক্ষার বদলে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীর সার্বিক শিখন হবে৷

অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন অর্জনের জন্য যে বই রচিত হয়েছে তাতেও আগের মতো মুখস্থনির্ভর কন্টেন্টের আধিক্য নেই৷ বইগুলো রচিত হয়েছে রিসোর্স বুক ও ওয়ার্কবুক আকারে, যা শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং সেগুলো থেকে কিভাবে জ্ঞান অর্জন করে তা প্রয়োগ করতে হয় সেই ধারণাও দেয়৷ পাশাপাশি বইগুলো প্রক্রিয়ানির্ভর, যাতে করে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে সক্রিয় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিখন অর্জনের জন্য তার ভুমিকা ও দায়িত্ব কীরূপ৷ এই বইয়ের সঙ্গে থাকছে সমৃদ্ধ শিক্ষক গাইড৷ এই শিক্ষক গাইডের মাধ্যমে ধারণা পাচ্ছেন কীভাবে জ্ঞান বিতরণকারীর বদলে সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অর্জনেরে দিকে নিয়ে যাওয়া যায়৷

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে থাকছে না কোনো প্রতিযোগিতামূলক নম্বর বা জিপিএভিত্তিক শিখন যাচাই প্রক্রিয়া৷ পরীক্ষাকেন্দ্রিক সনদের পরিবর্তে পারদর্শিতার সনদের ওপর গুরুত্ব দেবার ফলে শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির কী পরিবর্তন হলো সেটি সামস্তিকভাবে পরিমাপের নির্দেশক নির্ধারণ করা হয়েছে৷ নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক কর্তৃক মূল্যায়নের পাশাপাশি স্ব-মূল্যায়ন, সতীর্থ মূল্যায়ন, অভিভাবক ও সমাজের সম্পৃক্ততার সুযোগ রাখা হয়েছে৷ শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নকে শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন, শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর শিখনের মূল্যায়নের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে৷ পুরো মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার করা হবে এবং সামস্তিক মূল্যায়নও গতানুগতিক লিখিত পরীক্ষার বদলে অভিজ্ঞতাভিত্তিকই হবে৷ স্কুলে পরীক্ষাসপ্তাহের বদলে মূল্যায়ন মেলার আয়োজন করা হবে৷ ফলে পরীক্ষাভীতি দূর করে মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও উৎসাহের কারণ হবে৷

এই শিক্ষাক্রম রূপরেখায় বিষয়গুলোকে আগের মতো খণ্ডিতভাবে দেখা হয়নি৷ বরং বিভিন্ন পঠিত বিষয়ের সমন্বয়ে থিম গঠনের মাধ্যমে দশটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে৷ পৃথিবীর যেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়, সেসব দেশের শিক্ষাক্রমে এই অ্যাপ্রোচেই (ইন্টারডিসিপ্লিনারি) বিষয় সাজানো হয়েছে এবং সফলভাবে তার বাস্তবায়ন হয়েছে৷ এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, শিক্ষার্থীর সার্বিক ধারণা অর্জন করতে হলে আন্তঃবিষয়ক সমন্বয় খুব জরুরি৷ একই সাথে যুগের পরিবর্তনে বিষয়ের গতানুগতিক ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্যবসায় শিক্ষায় প্রয়োজনীয় জাবেদা বা টালিখাতার কাজগুলো এখন আধুনিক সফটওয়ার দিয়ে করা যাচ্ছে৷ তাই ব্যবসায় শিক্ষার আধুনিক ধারণা অনুযায়ী এই সফটওয়ারের উপর দখল অর্জনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে সৃষ্টিশীল হওয়াটাও জরুরি৷ এছাড়া সফল উদ্যোক্তা হতে হলে যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, পারস্পপরিক সহযোগিতা ইত্যাদি দক্ষতা অর্জন করাও প্রয়োজন৷

প্রতিটি শিক্ষার্থীরই একটা পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ের যোগ্যতা অর্জন করা প্রয়োজন৷ প্রচলিত শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমন্বিতভাবে সামাজিক বিজ্ঞান, এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাধারণ বিজ্ঞান একটি সমন্বিত বিষয় হিসেবে পড়লেও স্বাভাবিক কারণেই এই বিষয়গুলো সেভাবে গুরুত্ব পেতো না৷ নতুন শিক্ষাক্রম রূপরেখায় বিভাগের বিভাজন না থাকলেও, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব অন্য বিষয়গুলোর তুলনায় বেশি রাখা হয়েছে, যাতে সমন্বিত বিষয় হিসেবে থাকলেও এই বিষয়গুলো অধিক গুরুত্ব পায় এবং সেই অনুযায়ী শিখনসময় বরাদ্দ দেয়া হয়৷ আবার একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে সাধারণ বিষয়সমূহ, যেমন- বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি শিক্ষায় এখন যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়, বিষয়গুলোর ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন রূপরেখায় তার গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট শিখনসময় অনেকখানি কমিয়ে আনা হয়েছে, যাতে এর পরিবর্তে বিশেষায়িত বিষয়সমূহের উপর এই স্তরে জোর দেয়া হয়৷

বিষয়সমূহের তুলনামূলক গুরুত্ব ও শিখনসময়ের দিকটা ছাড়াও আরেকটা বিষয় এখানে উল্লেখ করা জরুরি৷ প্রচলিত শিক্ষাক্রম অনেকটা বিষয়বস্তুনির্ভর হওয়ার কারণে প্রচুর তথ্য সন্নিবেশিত থাকলেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের শিখন অনেক ক্ষেত্রেই গভীর হতো না৷ বরং প্রায়শই বিজ্ঞান বিষয়কে কঠিন ভাবা হতো এবং তথাকথিত মেধাবী শিক্ষার্থিদেরই শুধু বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ দেয়া হতো৷ নতুন রূপরেখায় এই বৈষম্য থাকছে না, এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখার ফলে শিক্ষার্থীদের শিখন গভীর ও স্থায়ী হবার সুযোগ তৈরি হয়েছে৷ পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এই শিখনকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে বিজ্ঞানভীতি দূর করে যৌক্তিক চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাক্রমের মধ্য দিয়ে সকল শিক্ষার্থীই এই যোগ্যতাসমূহ অর্জনের মাধ্যমে যাতে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে ওঠে, সেই প্রচেষ্টা থেকেই নতুন রূপরেখায় বিজ্ঞান শিক্ষাকে এভাবে রূপায়িত করা হয়েছে৷

এই শিক্ষাক্রমে সকল ধরনের শিক্ষার্থীর সবলতা ও চাহিদা পূরণের জন্য ইনক্লুশনের অ্যাপ্রোচটি শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে সন্নিবেশিত হয়েছে৷ পার্সোনালাইজড শিখনের মাধ্যমে জেন্ডার, ধর্ম, বর্ণ, প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিশুর সামর্থ্য, চাহিদা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তার শিখন কার্যক্রম পরিচালিত হবে৷ শিক্ষাক্রমে নমনীয়তা বজায় রাখার ফলে প্রতিবন্ধী, নিউরো ডেভেলেপমেন্টাল ডিজ্যাবিলিটি আছে এমন এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের প্রবেশগম্যতা, অংশগ্রহণ ও অর্জন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে৷ একইসাথে অতিমেধাবী শিশুদের শিখনচাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তার উপযোগী শিখন কার্যক্রমের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে৷ উদাহরণস্বরূপ, ভাষা শিক্ষায় প্রচলিত শিক্ষাক্রমে যেখানে শোনা, বলা, পড়া, লেখা এই চারটি মূল যোগাযোগ দক্ষতাকেই শুধু বিবেচনা করা হতো, নতুন শিক্ষাক্রমে এই চারটি দক্ষতার পাশাপাশি দেখা ও অনুভব করাকেও যোগাযোগ দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে৷ আবার সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেই বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের উপর জোর দেয়ার ফলে শিক্ষার্থী তার নিজ গতিতে এবং নিজের প্রবণতা অনুযায়ী যাতে শিখন সম্পন্ন করতে পারে তার সুযোগ রাখা হয়েছে৷ এই পুরো শিখন কার্যক্রম জুড়েই মূল্যায়ন পরিচালিত হবার ফলে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও বৈচিত্র্য অনুযায়ী বহুমুখী মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে৷ অর্থাৎ, সকল শিক্ষার্থী তার নিজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যাতে শিখন কার্যক্রমে সমানভাবে অংশ নিতে পারে, তেমন ব্যবস্থা রাখার কথা পুরো শিক্ষাক্রম রূপরেখাতেই বলা হয়েছে৷

শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতে এসেছে নতুন ধারণা৷ শিক্ষাক্রমটি রাতারাতি বাস্তবায়িত হবে না৷ এটি ২০২১ সাল থেকে পাইলটিং শুরু হয়ে ২০২৭ সালে গিয়ে পূর্ণ বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে৷ ধাপে ধাপে পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনগুলো আনার প্রয়োজন পড়বে, তার প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এভাবে বান্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ এমনকি ২০২৩ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পরীক্ষামূলক সংস্করন হিসেবে সারা দেশে নব বিতরণ করা হয়েছে, যাতে করে বই কিংবা প্রক্রিয়াতে কোনো ভুল-ভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকে৷ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে হাইব্রিড কৌশল আনা হয়েছে৷ শিক্ষকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরে মুখোমুখি প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন এবং এরপরে উপজেলাভিত্তিক অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মেন্টরিং গ্রুপের মাধ্যমে স্কুলে বাস্তবায়নের সময় বছরব্যাপী সহযোগিতা পাবেন৷

শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধি, আন্তঃমন্ত্রণালয় কাজের সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অনেকটা সাফল্য নির্ভর করছে৷ শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে মেধাবিদের এই পেশায় নিয়ে আসতে হবে৷ আবার ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যৎমুখী বাস্তবায়নদল প্রয়োজন৷ এজন্য শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ, স্থানীয় ও স্কুলপর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে৷ অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে এই নতুন পদ্ধতির সুফল পেতে হলে৷ সকলের টিমওয়ার্কই পারবে নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের প্রজন্ম তৈরি করতে৷

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২০/২৩