শহীদ মিনারে ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, রবি, ২৭ জুন ২১

নিউজ ডেস্ক।।

করোনা পরিস্থিতিতে বারবারই স্থগিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা। করোনা ঊর্ধ্বগতির ফলে সারাদেশে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা হওয়ায় চতুর্থবারের মতো এই পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আগামী মাসের মধ্যেই স্থগিত পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচির আগে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিনের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও দেখা করতে পারেনি তারা। ডিন অফিস থেকে বলা হয় ‘স্যার অফিসে নেই’।

অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে সেটি স্থগিত করে এই বছরের ৪ এপ্রিল পরীক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়। লকডাউনের কারণে সেটিও স্থগিত হয়। নতুন তারিখ দেয়া হয় ৩০ মে। সেই তারিখও পরিবর্তন করে বলা হয় ২৯ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু এখন সোমবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা আসলে গতকাল শনিবার দুপুরে এই তারিখও স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদ। চার দফায় পরীক্ষা স্থগিতে ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মূলত মেডিসিন অনুষদ থেকেই অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনা ও লকডাউনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরীক্ষা বারবার স্থগিত করলেও রাজশাহী এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অধীনে থাকা আমাদের সহপাঠীদের পরীক্ষা নিয়ে নিয়েছে। তারা অলরেডি অনেক মেডিকেলে ইন্টার্ন করাও শুরু করেছে। এতে আমরা পিছিয়ে গেছেন।

সাবিকুন নাহার মৌ বলেন, আমরা ভবিষ্যতের চিকিৎসক ও করোনাযোদ্ধা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় সব মেডিকেল কলেজগুলোতে ইন্টার্ন সংকট দেখা দিয়েছে। এই ইন্টার্ন সংকট নিরসন শুধুমাত্র আমাদের পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব। নতুবা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার সংকটময় হবে। এমত অবস্থায় আমরা ভিন্ন পদ্ধতিতে অথবা সংক্ষিপ্ত আকারে, পেশাগত পরীক্ষা দিতে চাই।

পরীক্ষা না নেয়াকে বৈষম্য দাবি করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নর্দান আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমাদের ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষা চারবার রুটিন দিয়ে স্থগিত করায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের সঙ্গে অন্য পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুলিয়ে ফেললে হবে না। আমরা করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছি। আমরা জানি কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। এই পরীক্ষা পাস করলেই করোনা মহামারিতে সেবা দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিতে পারব।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.