লাইসেন্স ছাড়াই চলছে মানসিক হাসপাতাল দেখবে কে?

প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ১২ নভেম্বর ২০

নিউজ ডেস্ক।।

চিকিৎসাসেবার নামে দেশে গড়ে উঠছে লক্ষাধিক প্রতিষ্ঠান। এর সিংহভাগই অবৈধ। আবাসিক বাড়িঘর, হাটবাজার, অলিগলিতে এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থান। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কী করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি এন্ড ডি-অ্যাডিকশন হাসপাতালে বরিশাল মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে এসব চিকিৎসা সেন্টারের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মাইন্ড এইড হাসপাতালকর্মীদের নির্যাতনে শিপনের মৃত্যুর ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে উঠে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে এই নির্মম ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে মারতে মারতে সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমকে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। দুই-চার মিনিটের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একজন সিনিয়র এএসপিকে চিকিৎসার নামে এভাবে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করছে এমন বর্বরতা ভিডিও ফুটেজ আমাদের দেখতে হলো। পুলিশ কর্মকর্তার এমন নির্মম মৃত্যুতেও আমরা ক্ষুব্ধ, শোকাহত। জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রের নামে গড়ে উঠেছে নির্যাতন সেল।

এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কেউই নেই। এমনকি নেই কোনো সাইকিয়াট্রিস্ট। এর পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার নামে একই ধরনের অনেক নির্যাতনকেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান হয় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, কিন্তু বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। শুধু রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাতেই অবৈধভাবে ২০ সহস্রাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাত্র সাড়ে ৩ হাজার প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রাথমিক আবেদনপত্র পাঠিয়েই খালাস, কোনো যোগাযোগ পর্যন্ত করেন না।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় প্রতিদিন অবৈধভাবে এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এসে মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে। সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই খোলা হয়। আর বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও মাইন্ড এইড হাসপাতাল কীভাবে পরিচালিত হয় তা প্রশ্নই থেকে যায়। বিষয়টি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখা উচিত। কীভাবে একজন প্রাণবন্ত মানুষকে মেরে ফেলল অবাক হতে হয়।

এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডে। এ হত্যাকাণ্ডের সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কেউ যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।

শিক্ষাবার্তা/এসজেড

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.