রোজার ভেতর ক্লাস চায় না প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, রবি, ৭ মার্চ ২১

নিউজ ডেস্কঃ

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ৩০ মার্চ খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এবার রমজানেও ক্লাস হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। কিন্তু রমজানের ভেতর ক্লাস চলা উচিত নয় বলে জানিয়েছে দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ।

গত বুধবার (৩ মার্চ) থেকে শুরু করে গতকাল শনিবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত চলা সময় অনলাইনের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে রোজায় ক্লাস চলা উচিত নয় বলে মতামত দিয়েছে ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। আর রোজায় ক্লাস চলাস উচিত বলে মতামত দিয়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া রোজায় ক্লাস করা উচিত কি উচিত না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ।

সময় অনলাইনের করা জরিপে বলা হয়েছিল ‘রোজার মধ্যে স্কুল-কলেজে ক্লাস নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আপনি কী মনে করেন?।’ ৪ দিনের চলা এই জরিপে মতামত দিয়েছে মোট ৭১ হাজার ২৫ জন মানুষ।
যেখানে রোজায় ক্লাস করা উচিত বলে মতামত দিয়েছে ৮ হাজার ৭৫৫ জন। আর রোজায় ক্লাস করা উচিত নয় বলে মতামত দিয়েছে ৬১ হাজার ৭১৮ জন মানুষ। এ ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি ৫২৯ জন মানুষ।
এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আসন্ন রমজান মাসে ক্লাস বন্ধ রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে শিক্ষক কর্মচারীদের টিকা দেয়ার কাজ শেষ করা হবে। পুরো রোজায় ক্লাস বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। শুধু ঈদের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
একইদিন শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন ক্লাস ফাইভে সপ্তাহে ৫ দিন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৬ দিন এবং বাকিদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ১ দিন করে ক্লাস হবে।
দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২০ সালের বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গত ২২ জানুয়ারি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। স্কুল-কলেজগুলোতে ৩৯ পাতার গাইডলাইন পাঠিয়ে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলো প্রস্তুত করে রাখতে, যাতে যে কোনো মুহূর্তে সেগুলো খুলে দেয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই প্রতিকূল স্রোতের মুখোমুখি বাংলাদেশও। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মতো বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা খাত। প্রায় ১২ মাস ধরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে কার্যক্রম চলমান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.