রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু : চিকিৎসকদের অবহেলার প্রতিবাদে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক।।

চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় গুরুতর আহত হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ ওঠেছে। চিকিৎসায় এই অবহেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন রাবি শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দিবাগত রাতে রামেকের মূল ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলছিল।

এসময় দায়িত্বে অবহেলার সাথে জড়িত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গায়ে যারা হাত তুলেছেন, তাদের বহিষ্কারের জন্য এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকরাই দায়ী। তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এর সাথে যারা জড়িত তাদের বহিষ্কার না হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থী মিলে এ আন্দোলনকে বেগবান করে তুলব। আমরা রামেক প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।’

এসময় শিক্ষকসহ আন্দোলনে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, ‘আমার ছাত্রের মৃত্যু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমার শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার কারণ না জানা পর্যন্ত এ
আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে আমার শিক্ষার্থীরা রামেকের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের গায়ে হাত তুলবে না- এটা আমি সকলকে আশ্বস্ত করছি।’

এর আগে চিকিৎসকরা বিলম্ব করে এসে রাবি শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড ও পরিচালকের কক্ষের সামনের অংশে ভাঙচুর চালান রাবি শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে এমজিএম শাহরিয়ার নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা রামেকে নিয়ে এলে চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যু বরণ করেন এ শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শাহরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।