রাজনৈতিক দল মনিটরে ইসি

নিউজ ডেস্ক।।

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম মনিটরিংয়ে নামছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমনকি দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল ইসির শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সেই দলের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক নিবন্ধিত দল এখন সাইনবোর্ড-সর্বস্ব হয়ে পড়েছে।

এমনকি বড় দলগুলোও ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। তাদেরও অফিস নেই বললেই চলে। আবারও কিছু কিছু দল নিবন্ধনের সময় যে সব অফিস দেখিয়েছিল তাও এখন নেই। তাই নির্বাচন কমিশন চলতি মাসের মধ্যেই নিবন্ধিত দলের নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে।

এরপরে তথ্য পর্যালোচনা করে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বহাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০০৮ সালের পরে ১৪ বছরের নির্বাচন কমিশন ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিলেও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করেছে কমিশন। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলামগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, আমাদের যে মনিটরিং করার দায়িত্ব সেটা আমরা করব।

আমরা দেখব-দলগুলো নিবন্ধনের শর্তগুলো মানছে কি না। শর্ত না মানলে নিবন্ধন বাতিল হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী দেখব- তাদের যে শৃঙ্খলা থাকার কথা তা আছে কি না। না থাকলে সেই দলের বিষয় ফাইল তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপন হবে। কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই হবে। তিনি বলেন, আমরা নিবন্ধিত দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশ করব।
এদিকে আগামী বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। তার আগে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে নতুন দলের আবেদন যাচাই-বাছাই; পরে জুনের মধ্যে নিবন্ধন চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৩৯টি। এগুলোই শুধু দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারে। ইসিতে নিবন্ধিত না হলে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে কোনো বাধা না থাকলেও ভোটে অংশ নেওয়া যায় না। নিবন্ধনহীন দলের কেউ ভোটে অংশ নিতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। ইসিতে দল নিবন্ধনের জন্য ৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। সেই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী তিনটি শর্তের একটি পূরণ করতে হয়। শর্তগুলো হলো- দলটির একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং সদস্য হিসেবে অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল প্রদর্শন। তবে আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত দল এই বিধান লঙ্ঘন করলে ইসি তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া কোনো নিবন্ধিত দল পরপর দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে ইসি।

১৪ বছরে ৪৪ দলের নিবন্ধন; বাতিল ৫টি : সর্বশেষ দল নিবন্ধনের জন্য ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। সময় দেওয়া হয়েছিল ওই বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছিল ৭৬টি রাজনৈতিক দল। কে এম নূরুল হুদা কমিশন নানা কারণে সবার আবেদন বাতিল করেছিল। পরে আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। তার পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে ৪৩টি দল আবেদন করেছিল। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন সেই সময় তিনটি দলকে নিবন্ধন দেয়। বিগত ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দলগুলোকে নিবন্ধন দেয়। সেই সময় ১১৭টি দল আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর নিবন্ধন পায় ৩৯টি দল। সবমিলিয়ে গত ১৪ বছরে মোট ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করা হয়। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।

এর মধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়; ২০১৮ সালে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। এ ছাড়া ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নিবন্ধন বাতিল করে ইসি।