রাজধানীতে পরিবহন সঙ্কট, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নিউজ ডেস্ক।।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীতে পরিবহন বন্ধ করে দেয় বাস মালিকরা। রাত ১১টার পর সড়কে দেখা যায়নি নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করা সিটি বাস। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা বিপাকে পরেন নগরবাসী।

এদিকে শনিবার সকালেই রাজধানীর ফার্মগেট, ধানমন্ডি, বাংলামোটর, মগবাজার, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকায় বাস চলাচল কম দেখা যায়। তবে কিছু বাস চললেও ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মতিঝিল অফিসে যাবেন ব্যাংক কর্মকর্তা আকরাম হোসেন। তিনি জানান, ‘রাতে জানতাম না পরিবহন বন্ধ। যদি জানতাম তাহলে এরকম পরিস্থিতিতে পরতে হতো না। গাড়ি পাচ্ছি না, এটা তো কোন নিয়মের পর্যায়ের পরে না।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কামরান হোসেনের অফিস ধানমন্ডি। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৬ টায় তিনি বাসা থেকে বেড় হয়েও যথা সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ হিসেবে জানান পরিবহন সঙ্কটের কথা।

কামরান জানান, এ সুযোগে সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পোসহ অন্যান্য ছোট যানবাহনের ভাড়াও বাড়িয়ে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামীরা।

প্রতিদিন মটর বাইকে করেই অফিসে যান রাহাত খান নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইক চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। তাই বাইকে ছাড়াই অফিসে যাচ্ছি।

এর আগে গত রাতে বিভিন্ন এলাকায় দেখাযায় রাস্তার দুই পাশে রাজধানীতে চলাচল করা বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চালক-হেলপাররা জানান, ডিজেলের দাম হুট করে যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা বাসগুলোর পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই আপাতত যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য ভোক্তা পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, লিটারপ্রতি অকটেন ১৩৫ টাকা ও লিটারপ্রতি পেট্রোল ১৩০ টাকা হবে।

এতদিন কেরোসিন ও ডিজেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা প্রতি লিটার ও পেট্রোল ৮৬ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।