যে ৬ রোজায় সারা বছরের রোজা রাখার সওয়াব

এ এম আব্দুল ওয়াদুদ।।

সারা বছর নফল রোজার সাওয়াব পাওয়ার জন্য রমজান মাসের ফরজ সিয়াম পালনের পর শাওয়াল মাসে আরো ছয়টি রোজা রাখতে হবে, তাহলে পূর্ণ এক বছরে নফল রোজার সওয়াব লাভ করা যাবে।

হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ.

যে মাহে রমজানের রোজা রাখল এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোজা রাখল এটি তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য হবে।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৪)

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা রমজানের রোজা কবুল হওয়ারও পরিচায়ক। আল্লাহ তায়ালা কোনো বান্দার আমল কবুল করলে, তাকে অনুরূপ আরও আমল করার তৌফিক দান করেন।নেক আমলের প্রতিদানের একটি রূপ হলো আবার আরও নেক আমল করার সৌভাগ্য অর্জন করা।

প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কমপক্ষে ১০ গুণ করে দিয়ে থাকেন।
যেমনঃ সুরা আন আমেরর ১৬০ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ۖ وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
আয়াতের অনুবাদ:
যে ব্যক্তি কোনও পুণ্য নিয়ে আসবে, তার জন্য অনুরূপ তার দশগুণ (সওয়াব) রয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনও অসৎকর্ম নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তারই সমান প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তাদের প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।

এই হিসাবে রমজান মাসের ৩০টি রোজাকে যদি ১০ দিয়ে গুণ করা হয় তাহলে রোজার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০০টি বা তিন শ দিন রোজা রাখার সমান।

চন্দ্রমাসের হিসাব অনুযায়ী ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে যদি এক বছর হয়।প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কমপক্ষে ১০ গুণ করে দিয়ে থাকেন।তাহলে
অবশিষ্ট চুয়ান্ন বা পঞ্চান্ন দিনের জন্য আরও ছয়টি পূর্ণ রোজার প্রয়োজন হয়।
শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজাকে যদি আবার দশ দিয়ে গুণ করা হয়। তাহলে মোট রোজার ফলাফল গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এক বছরের সমান সংখক।
রমজান মাসের শেষে মুসলিম জাতির জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে পশ্চিম আকাশে উদিত হয় হিজরি সনের দশম মাস শাওয়াল মাসের চাঁদের।এ মাসের প্রথম দিনে মুসলিম উম্মার সর্ববৃহৎ উৎসব, ঈদুল ফিতর।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখবো?
একাধারে নাকি মাঝখানে বিরতি দিয়ে?

শাওয়াল মাসের যেকোনো সময় এই রোজা আদায় করা যায়।

উত্তম হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পরের ছয় দিন পরপর রোজাগুলো রাখা। তবে যদি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখে বা মাসের শেষে রাখে তাহলেও ‘রমাজানের পরে’ রোযা রাখার ফযীলত পাওয়া যাবে।
(শরহু সহীহ মুসলিম, নববী)
রমজানের ছুটে যাওয়া কাজা রোজা পরবর্তী রমজান মাস আসার আগে যেকোনো সময় আদায় করা যাবে। রমজানের কাজা রোজা রাখার জন্য সময় সংকীর্ণ হলে তার আগে নফল রোজা রাখা বৈধ ও শুদ্ধ। সুতরাং ফরজ রোজা

কাজা করার আগে নফল রোজা রাখতে পারবেন। তবে সম্ভব হলে আগে ফরজ রোজার কাজা আদায় করাতই উত্তম। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬৬)। হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের যে কাজা রোজা বাকি থাকত; তা পরবর্তী শাবান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না।’ (বুখারি: ১৯৫০; মুসলিম: ১১৪৬)।

শাওয়াল মাস ছয়টি রোজা রাখা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে কেননা। কেয়ামতের দিন ফরজ আমলের কমতি নফল আমল দিয়ে পূরণ করা হবে।

আমরা কেউই বলতে পারি না যে আমাদের ফরজ আমলের মধ্যে কোন কম রয়েছে কি না বা আমাদের আমল আল্লাহ তায়ালারর দরবারে কবুল হয়েছে কি না।তাই আমাদের উচিত ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত করা।

আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত আমাদের সকলকে তার হুকুম পালন করার তৌফিক দান করুন।