যে বাধ্যবাধকতা উঠল এসএসএসি-এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ  এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ‘রেজিস্ট্রেশন’ ও ‘পরীক্ষা ফরম’ পূরণে ‘বাবা’ ও ‘মা’র নাম উল্লেখে বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফরমে ‘বাবা’ ও ‘মা’র পাশাপাশি ‘আইনগত অভিভাবক’ বিকল্প যুক্ত করার নির্দেশনা এসেছে রায়ে। শুধু তা-ই নয়, এসএসসি-এইচএসসি শিক্ষার্থীকে এখন থেকে এই তিন বিকল্পের যেকোনো একটি পূরণ বা উল্লেখ করার নিয়ম চালু করতে বলা হয়েছে। ‘বাবা’ ও ‘মা’র নাম উল্লেখের বাধ্যতামূলক নিয়ম বা চর্চা অসাংবিধানিক ও শিক্ষা অধিকার পরিপন্থী ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

প্রায় দশক আগের এসংক্রান্ত এক রিটে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে মঙ্গলবার এ রায় দিয়েছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে রুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা, আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম এবং আইনজীবী আয়েশা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

পরে আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা লিপি বলেন, ১৪ বছর আগে যখন রিটটি করা হয়, তখন একজন শিক্ষার্থীকে এসআইএফ ফরমে অভিভাবক হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাবা’ ও ‘মা’র নামের ঘর পূরণ করতে হতো, অর্থাৎ বাবা ও মার নাম লিখতে হতো। যেকোনো একটি পূরণ করলে হতো না। ফলে একজন শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী চাইলেই বাবা-মার মধ্যে যেকোনো একজনের নামের ঘর পূরণ করতে পারত না। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে বাবা অথবা মা অথবা আইনগত অভিভাবকের মধ্যে যেকোনো একজনের নামের ঘর পূরণ করলেই চলবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত বলেন, শিক্ষাসংক্রান্ত ফরমে বাবা ও মার নাম উল্লেখে যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বাবা ও মার নামের পাশাপাশি ‘আইনগত অভিভাবক’ বিকল্পটিও যুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঠাকুরগাঁওয়ের এক শিক্ষার্থীর এসআইএফ ফরম পূরণে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘বাবার পরিচয় নেই, বন্ধ হলো মেয়ের লেখাপড়া’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমার মা আমাকে বলেছে আমার বাবা কে। তার পরও আমি বাবার নামটি রেজিস্ট্রশন ফরমে লিখতে পারিনি। কারণ ওই লোকটি আমার মা ও আমাকে স্বীকৃতি দেয়নি। আমাকে সবাই বলেছিল চুপ করে ওই লোকটির নাম লিখে দিতে। আমি লিখিনি। আমার রেজিস্ট্রেশন কার্ডও আসেনি। সেই সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ডও এলো না। আমি এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারলাম না।’

এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও নারীপক্ষ। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষা ফরম পূরণ করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাবা’ ও ‘মা’র নামের ঘর পূরণ না করলে শিক্ষার্থীদের ‘রেজিস্ট্রেশন কার্ড’ না দেওয়া কেন স্বেচ্ছাচারী এবং একই সঙ্গে এই বিদ্যমান এই নিয়ম বা চর্চা কেন বৈষম্যমূলক, অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

এ ছাড়া শিক্ষা অধিকার বিবেচনায় এসএসসি-এইচএসসি শিক্ষার্থীদের এসআইএফ তথ্য উল্লেখের প্রচলিত এই নিয়ম বা চর্চা আইন অনুযায়ী সংশোধন করে সেখানে ‘বাবা’ ও ‘মা’র পাশাপাশি ‘আইনগত অভিভাবক’ বিকল্প যুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর রায়ে যথাযথ ঘোষণা করলেন উচ্চ আদালত।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৪/২৩