যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ কাজ করব : মৌসুমী

নিউজ ডেস্ক।।

আবার বড় পর্দায় নতুন ছবি নিয়ে আসছেন নন্দিত অভিনেত্রী মৌসুমীর। ১১ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত ছবি ‘দেশান্তর’। কবি নির্মলেন্দু গুণের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করেছেন আশুতোষ সুজন। বড় পর্দায় ফেরা নিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সিনেমার বাঁকবদল হয়েছে। তাই বিরতি ভেঙে অভিনয়ে ফেরার জন্য যে ধরনের গল্প ও চরিত্র খুঁজছিলাম, তা পেয়েছি ‘দেশান্তর’ ছবিতে। তাই আনন্দ নিয়েই এ ছবিতে কাজ করেছি। ‘দেশান্তর’ দেশভাগ আর মানবিক প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত। আমরা এর আগে বিভিন্ন ছবিতে দেখেছি, দেশে কোনো বড় ধরনের সহিংসতার পর একটি সম্প্রদায়কে অন্য ভূখণ্ডে চলে যেতে। কিন্তু সবাই তো দেশ ছেড়ে যাননি। কেউ কেউ অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে থেকে গেছেন। সহিংসতার পর দেশে থেকে যাওয়া সেসব মানুষের গল্পই বলা হয়েছে ‘দেশান্তর’ ছবিতে। পরিচালক আশুতোষ সুজন উপস্থাপনায় মুনশিয়ানার ছাপ রেখেছেন। ছবি দেখার পর দর্শকও সে কথা স্বীকার করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

সালমান শাহ ও আমি একই স্কুলের স্টুডেন্ট ছিলাম। শুটিং করতে এসেই জানতে পারি, আমরা একই স্কুলের। তাই ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বটা অন্যরকম ছিল। এই বন্ধুত্ব থেকেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর পর শিবলী সাদিকের ‘অন্তরে অন্তরে’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘স্নেহ’ এবং শফি বিক্রমপুরীর ‘দেনমোহর’ ছবিতে অভিনয় করেছি। এর পর তার সঙ্গে আমার আর অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। সালমানের পর বলা যায় কমবেশি সবার সঙ্গেই অভিনয় করেছি। যার সঙ্গেই জুটি বেঁধেছি, বেশ উপভোগ করেছি। ওমর সানীর সঙ্গে কাজ করে করে তো তার জীবনসঙ্গীই হয়ে গেলাম। সে আমার জীবনেরও নায়ক। এর বাইরে আরও রয়েছেন মান্না ভাই আর ফেরদৌস। এ ছাড়া ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই, রুবেল ভাইয়ের সঙ্গেও বেশকিছু চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। সবার সঙ্গেই স্বচ্ছন্দে কাজ করেছি।

আমি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। জেগে জেগে স্বপ্নগুলো লালন করি, যাতে আমার স্বপ্নটা মরে না যায়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি না। আমার সিম্পল সব স্বপ্ন। সন্তানদের বাইরে বড় স্বপ্নের মধ্যে মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। সুন্দর একটা ওল্ডহোমও করতে চাই। এগুলো করতে পারলে নিজেকে অনেক সফল মনে হবে। আর যদি না-ও করতে পারি, আমার অবর্তমানে কেউ না কেউ করবে। আমি ভাবি, যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ কাজ করব। এরপর অন্য কেউ এসে অবশিষ্ট কাজ করে যাবে।

‘পত্রিকা নিয়ে বরাবরই আমার একটা আগ্রহ আছে। অনলাইনে এখন বেশি আগ্রহী। রাজনীতিতে তেমন আগ্রহ পাই না। ভেবেছি সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু করব।’ কথাগুলো বলছিলেন মৌসুমী। তিনি ‘ভিশন-২০২১’ নামের একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের নির্বাহী সম্পাদক। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর জন্মদিনে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন এই চিত্রনায়িকা। তিনি বলেন, ‘লম্বা সময় ধরে অভিনয়ে আছি। এই দীর্ঘ পথচলায় অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। নানা ইস্যুতে কথা হয়েছে। অনেক কিছু তাদের কাছ থেকেও জানতে পেরেছি। অভিনয় করার একটা সময় আমার মধ্যে সুপ্ত ইচ্ছা জাগে, যদি কখনো সুযোগ হয়, তা হলে সাংবাদিকতায় নিজেকে যুক্ত করব। তাই আমার কাছে যখন প্রস্তাবটি আসে, সানন্দে গ্রহণ করি।’

পুরো নাম আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী। জন্মগ্রহণ করেন খুলনায়, ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর। বাবা নাজমুজ্জামান মনি ও মা শামীমা আক্তার জাহানের গর্বিত সন্তান তিনি। মৌসুমী ১৯৯০ সালে আনন্দ বিচিত্রার সেরা ফটোসুন্দরী নির্বাচিত হন। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি হয়ে পর্দায় অভিষেক তার। সুপারহিট হয় ছবিটি। তিনি প্রিয়দর্শিনী। অভিনয় শুরু করেছেন সেই নব্বই দশকে অথচ এখনো তিনি নায়িকা। এখনো পর্দায় তার উপস্থিতিতে মুগ্ধ হন দর্শক। তার সমসাময়িক অনেক নায়িকাই অভিনয় থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। অনেকে কাজ কমিয়ে মন দিয়েছেন সংসারে; কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে যারা ঢালিউডে নিজেদের ক্যারিয়ারকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছেন, এগিয়ে নিয়েছেন পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে- তাদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী মৌসুমী। আজ তার জন্মদিন। আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।