মোস্তাফাবিয়া মাদ্রাসা:একে অপরের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ

বগুড়াঃ সরকারি মোস্তাফাবিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং একজন সহকারী অধ্যাপক একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও পরস্পরবিরোধী সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক জিএম শামছুল আলম বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমন ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার পাশাপাশি মাদ্রাসার নামে একটি বাড়ি এবং দোকান ভাড়া নিজের পকেটস্থ করছেন। কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞান গবেষণাগারগুলোর জন্য বরাদ্দ এলেও তার হদিস মিলছে না।

তিনি বলেন, ২০২০ থেকে বর্তমান বছর পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকাই কোনো কাজ না করে আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমন। এসব দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় জিএম শামছুল আলমের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন অধ্যক্ষ। এমনকি তাকে ওই মাদ্রাসা থেকে বদলিও করা হয়েছে। তিনি কয়েকদিন আগে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী সরকারি কলেজে যোগ দিয়েছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ উল্টো জিএম শামছুল আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে নিজেকে দুর্নীতি মুক্ত বলে দাবি করেন।

সরজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞানের ল্যাবগুলোতে তালা ঝুলছে। ময়লা মাকড়সার জালে আটকে আছে গ্রিলগুলো।

দুপুর দুইটার মধ্যেই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম শেষ। ওই সময় গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল জলিল নামের এক শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন মাদ্রাসার সেমিনার হলে কোচিং করান। আরেক শিক্ষক হারুনও ক্লাস চলাকালে কোচিং করান। এসব কিছু জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেননি অধ্যক্ষ।

নৈশপ্রহরী আনোয়ার বলেন, মাদ্রাসার সরকারি সম্পদ অধ্যক্ষের কাছের লোকেরা প্রতিনিয়তই বের করে নিয়ে যান। বিশেষ করে সরকারি বই ছুটি শেষে একজন পিয়ন বস্তায় ভরে সাইকেল যোগে নিয়ে যান। এমন দৃশ্য একটি সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ সরকারি বরাদ্দের টাকা দিয়ে কোনো কাজ করেন না। কম্পিউটার ল্যাবে একটিও ভালো কম্পিউটার নেই। ল্যাবগুলোর বেহালদশা। তার এসব দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় জিএম শামছুল আলম নামের এক শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। কথা হয় ওই মাদ্রাসা থেকে সদ্য অনার্স শেষ করা রেজাউল করিম, আহসান হাবীব, আল আমিন এবং সাব্বিরের সঙ্গে। তারা বলেন, আমরা জিএম শামছুল আলম স্যারকে দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন সব সময়। মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তিনি কথা বলায় তাকে মিথ্যা অপবাদে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বগুড়ার সরকারি মোস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ইসলামী শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক জিএম শামছুল আলম বলেন, অধ্যক্ষ মাদ্রাসা থেকে একটি ঐতিহ্যবাহী লোহার সিন্দুক গোপনে বিক্রি করেছেন। অবৈধ পন্থায় গাছ বিক্রি করেছেন। গাছের ডাল বিক্রি করেছেন। হোস্টেলের বড় বড় হাঁড়ি ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে। ১২টি সিসি ক্যামেরা গায়েব করেছেন। ১টি কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার গায়েব। লিজ ছাড়াই পুকুরে মাছ চাষ ও বিক্রি করেছেন তিনি। অতিরিক্ত সেশন ফি আদায়সহ নানা দুর্নীতি করছেন তিনি। এসব দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়েছে। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমি আমার নামে ছড়ানো সব অপবাদের প্রমাণ চেয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। আরেকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক হারুনুর রশিদ মাদ্রাসার নানা দুর্নীতির সহযোগী। তিনি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে মাদ্রার গেটের সঙ্গেই একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন। ক্লাস না নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে ভর্তি হতে বাধ্য করান। আমি তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছি। ফলে ওই শিক্ষকও নিজের অপরাধ আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। বিষয়গুলো নিয়ে আমি প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো সুরাহা পাইনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক হারুনের বিরুদ্ধে অপর একজন নারী খণ্ডকালীন শিক্ষক যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। ওই নারীশিক্ষক হারুনের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কিংবা বিচার কোনোটাই করেননি। উল্টো ওই শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুৎ করেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, জিএম শামছুল আলমের অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাদ্রাসায় কোনো দুর্নীতি হয় না। সবকিছু ঠিক আছে। তিনি জিএম শামছুল আলমের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৯/২০২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়