মেসি জাদুতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

 নিউজ ডেস্ক।।

পুরো ম্যাচটিকে যদি এক কথায় ‘মেসিময়’ বলা হয়, তবে কোনো অংশেই ভুল হবে না। দলের একটি গোল করলেন, অন্য দুটি গোলে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করলেন। এছাড়া মাঠে নেমেই রেকর্ড, গোলে করেও রেকর্ড। এমন দাপট শেষে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর ফের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। তবে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো।

মঙ্গলবার রাতে আসরের প্রথম শেষ চারের ম্যাচে লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। যেখানে আধিপত্য বিস্তার করে দারুণ জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পেনাল্টি থেকে গোল করে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেওয়ার পর জোড়া গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ।

এদিন মাঠে নেমেই আরেকটি রেকর্ড গড়লেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথুসের সমান সর্বোচ্চ ২৫টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

তবে শুরুতে আর্জেন্টিনার থেকে ক্রোয়েশিয়াই বল দখলে আধিপত্য দেখায়। কিন্তু আক্রমণে গিয়ে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল। অন্যদিকে শটগুলো লক্ষ্যে রাখতে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৩৪তম মিনিটেই মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণে আলভারেজকে ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। সেখান থেকে সফল স্পট কিকে গোল করতে ভুল করেননি মেসি।

৫ বিশ্বকাপ খেলে ১১তম গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্ব মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন ১০ গোল করা কিংবদন্তি গাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। এছাড়া চলমান আসরে তার ৫টি গোল হলো। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মেসি সমান ৫টি করে গোল করে শীর্ষে রয়েছেন।

আর্জেন্টিনার উদযাপনের রেশ না কাটতেই দৃষ্টিনন্দন এক গোলে ২-০ দুই গোলের লিড এনে দেন আলভারেজ। ৩৯তম মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে মেসির পাসে বল নিয়ে প্রায় একক নৈপুণ্যে বল নিয়ে উঠে এসে লক্ষ্যভেদ করেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬৯ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন আলভারেজ। তবে এই গোলের প্রাপ্তি মেসিকেই দিতে হবে। মাঝ মাঠ থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ ণৈপুণ্যে বল নিয়ে কয়েকজন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলারকে কাটিয়ে ক্রস করলে সেখান থেকে আলতো টোকায় গোলটি করেন আলভারেজ।

এরপরও আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি সুযোগ পায়। তবে আর কোনো গোল না হলে শেষ অবধি ৩-০ ব্যবধানে জিতেই ফাইনালে উঠে যায় দলটি।