মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পরও কিডনি হার্ট লিভার সচল থাকবে

হামিম উল কবির।।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এমন একটি যৌগ আবিষ্কার করেছেন যা প্রয়োগ করলে মৃত্যুবরণের ৬ ঘণ্টা পর কিডনি, হার্ট ও লিভার কার্যকারিতা হারায় না। গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কারে উল্লিখিত তিনটি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং এটা হবে মানবজাতির জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটাকে ব্রেইনএক্স টেকনোলজি বলা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কৃত এই ডিভাইস (যন্ত্র) দেহে নির্দিষ্ট অঙ্গে এক ধরনের তরল সরবরাহ করবে যাতে কোষে প্রদাহ হওয়া প্রতিরোধ করবে এবং কোষগুলো সুস্থ থাকবে। যন্ত্র থেকে সরবরাহ করা তরল মানুষের মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পরও জীবন্ত থাকবে। গবেষকরা একটি শূকরের ওপর এই পরীক্ষাটি চালান। শূকরটিকে ‘কার্ডিয়াক এরেস্ট’ করিয়ে তারা হত্যা করেন। কার্ডিয়াক এরেস্ট হলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরই প্রাণীর মৃত্যু হয়।

গবেষণাটি প্রথমে শূকরের দেহে করা হলেও গবেষকরা আশাবাদী যে, তাদের পরীক্ষা পদ্ধতি মানুষের অঙ্গে সমান কার্যকর হবে। যদি এমনটি সত্যিই হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাহলে কিডনি, হার্ট ও লিভার প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এতে করে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষারত মানুষের সংখ্যা কমবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫ হাজার মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষা করছে এবং এদের মধ্যে দৈনিক ১৭ জনের মৃত্যু হয়ে থাকে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ না পেয়ে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার মানুষের কেবল কিডনি বিকল হয়ে থাকে। লিভার কাজ করে না এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়। বাংলাদেশে ১ লাখ মানুষ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। এদের প্রায় সবার লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারলে অনেকেই বেঁচে যাবেন।

এই গবেষণার নেতা ড. রোবার্টপোট্রে ব্রিটেনের ডেইলি মেইলকে বলেন, এই গবেষণা একদিন মানুষের জন্য প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ সরবরাহে সুযোগ এনে দেবে। ড. পোট্রের গবেষণাটির অংশ ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই গবেষণা বৈশ্বিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের স্বল্পতাকে পূরণ করবে। তিনি বলেন, ৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ওই শূকরের দেহের কোষের কার্যকারিতা আগের মতোই ছিল। শুধু যে কিডনি, হার্ট অথবা লিভারই সচল ছিল তা নয়, শূকরের দেহের অন্যান্য অঙ্গও শূকরটির মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পর সচল ছিল।

৬ ঘণ্টা পর্যন্ত গবেষকরা শূকরের কিডনি, হার্ট ও লিভার সচল রাখতে সমর্থন হন। অর্থাৎ এই অঙ্গগুলোর অভ্যন্তরীণ কোষগুলো মরে যায়নি। ইয়েল ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. নিনাদ সেসটেন বলেন, ‘আমরা শূকরের পুরো দেহের রক্ত সঞ্চালন চালু রাখতে পেরেছিলাম। তারা মৃত শূকরের হার্টে বৈদ্যুতিক কার্যক্রম লক্ষ্য করেছেন। এই বৈদ্যুতিক কার্যক্রম হার্টকে পাম্প করতে সহায়তা করে।

প্রফেসর নিনাদ ব্যাখ্যা করে বলেন, হার্ট যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন প্রাণী দেহের অঙ্গগুলো ফুলে যায় এবং রক্ত সরবরাহ নালীগুলো নষ্ট যায় মানে কাজ করতে পারে না। ফলে দেহের কোথাও রক্ত সঞ্চালিত হয় না। তিনি বলেন, যে শূকরের দেহে এই ব্রেইনএক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এর দেহে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি অকেজো হয়ে যায়নি। এটা প্রমাণ করে যে, এই শূকরের অঙ্গগুলো প্রতিস্থাপনযোগ্য। ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ২০১৯ সালেও এমন একটি পরীক্ষা শূকরের দেহে করা হয়েছিল। তখন শূকরটির ব্রেইনের কার্যকারিতা ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছিল শূকরটির মৃতু্যুর পরও।