মূল্যস্ফিতি বেশি হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনায়ঃ ড.সালেহ উদ্দিন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক।।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় সব দেশই সতর্কতা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশকেও তাই করতে হবে। তবে বৈশ্বিক বা বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিতে একটু ভিন্নতা রয়েছে। এদেশে মূল্যস্ফীতির হার বেশি হচ্ছে মূলত অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে। পণ্যমূল্যে যেমন নিয়ন্ত্রণ নেই, তেমনই সেবা খাতেও নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বাড়া বা সরবরাহ সংকটের দোহাই দিয়ে পণ্য ও সেবার দাম লাগামহীনভাবে বাড়ানো হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে বাজার নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের মধ্যেও দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ বাড়ছে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই তা বাড়ছে। আবার অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ও হচ্ছে। এর মানে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির উপকরণগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। এ খাতে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। আর মুদ্রানীতি নিয়ে দেশের মূল্যস্ফীতির হার কমানো খুব বেশি সম্ভব নয়। এ হার কমাতে হলে বাজার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে দেশে আমদানির মাধ্যমে এক ধরনের মূল্যস্ফীতি আমদানি করছে। এ প্রভাব থাকবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি কমাতে হবে।

এ খাতে আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারে কিন্তু বিলাসী পণ্যের সরবরাহে কোনো কমতি নেই। বিদেশি ফলের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে বেশি পণ্য আমদানি করে প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। ওইসব দেশে মূল্যস্ফীতির হার না কমা পর্যন্ত আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার নেপথ্যে আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। বিদেশ থেকে চড়া দামে পণ্য আমদানি করায় ও রেমিট্যান্স কমায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। এদিকে আমদানির দায় মেটাতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ডলারের জোগান কমে গেছে। এতে টাকার মান কমে গিয়ে মূল্যস্ফীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। কৃচ্ছ সাধনের জন্য জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। দীর্ঘ মেয়াদে এ হার বেশি থাকা বিপজ্জনক। মূল্যস্ফীতির বড় আঘাত আসে স্বল্প ও মধ্য-আয়ের মানুষের ওপর। তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের সুরক্ষা দিতে সরকারের সহায়ক কার্যক্রম আরও বাড়ানো জরুরি। এর মধ্যে কম দামে খাদ্য সরবরাহ করা। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোয় নীতিসহায়তা দিয়ে চাঙা করে তোলা।