মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে ধরার চেষ্টা, মোমেনের সাথে জরুরি বৈঠক

নিউজ ডেস্ক।।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ঢাকার শাহীনবাগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাড়ি পরিদর্শন শেষে বেরিয়ে আসার সময় বাইরে একদল মানুষ তাকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করে।

বুধবার সকালে পিটার হাস ঢাকার শাহীনবাগে অবস্থিত বিএনপির সাবেক নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যান।

সুমন ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবারের দাবি হচ্ছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত যখন সেখানে যান, তখন বাইরে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ‘মায়ের কান্না’ নামের আরেকটি সংগঠন।

তিনি যখন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাকে ঘিরে একটি স্মারকলিপি দেবার চেষ্টা করে।

এই সংগঠনটির সাথে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলে মনে করা হয়।

গত ১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ‘মায়ের কান্না’ নামের সংগঠনটি কুমিল্লার টাউন হল মাঠে একটি সমাবেশ করে।

সেখানে উপস্থিতি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এবং কুমিল্লার স্থানীয় সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন।

এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।

মোমেনের সাথে জরুরি বৈঠক
বুধবার শাহীনবাগের এই ঘটনার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে দেখা করেছেন।

সে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে তিনি তার নিরাপত্তারক্ষীদের পরামর্শে দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করেন। নতুবা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন তার গাড়ি ব্লক করে দেবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এতে তিনি খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আমি ওনাকে বললাম আপনার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব আমাদের।

‘আমি জিজ্ঞেস করলাম যে আপনার কিংবা আপনার লোকের ওপর কেউ আক্রমণ করেছে? উনি বললেন যে না। তবে উনি বললেন যে ওনার গাড়িতে হয়তো দাগ লেগেছে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অধিকতর নিরাপত্তা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যে শাহীনবাগ এলাকায় যাবেন এটি সরকার জানতো না এবং সরকারকে জানানো হয়নি।

অসন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ
নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাড়িতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি সরকার।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেন বিএনপি নেতার বাসায় গেলেন সে প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

‘আমি সবিনয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিমাসে কত জন গুম হয় সে চিত্রটা কিন্তু আমরা সিএনএন-এ আমরা শুনেছি। কতজন নারী ধর্ষিত হয় সেটাও আমরা দেখেছি। কতজন খুন হয় সে চিত্রও আমরা দেখেছি।’

‘আপনি পিটার হাস সাহেব আপনি বাংলাদেশে ১৪ই ডিসেম্বর স্মরণ করছেন। যদি দেখতাম আপনি বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গেছেন সে চিত্রটা বেশি ভালো লাগতো। তার আগেই উনি চলে গেছেন সুমনের বাড়িতে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমান ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীকে গুম করেছে, খুন করেছে।

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিএনপির অনেকেই নিজে থেকে নিখোঁজ রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের জানা উচিত।

কাদের প্রশ্ন তোলেন, ‘১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বিমান বাহিনীর কত অফিসারকে গুম করে খুন করেছিল?’

সূত্র : বিবিসি