মার্কিন দুতাবাস বাংলাদেশী ভিসা আবেদনে দালালদের বিষয়ে সতর্ক করলো

ভিসা আবেদন ও কাগজপত্র প্রস্তুতকালে দালালদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে ভিসা আবেদন ও ইস্যুর বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গিয়ে এ পরামর্শ দেন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল নাথান ফ্লুক। 

তিনি বলেন, কিছু ভিসা আবেদনকারী তাদের সাক্ষাতকারের সময় নেওয়ার আগে ভিসা পরামর্শকদের কাছে যান। ভিসা সাক্ষাতকারের দিন-সময় ঠিক করার জন্য ভিসা পরামর্শকের প্রয়োজন নেই। তারা প্রায়ই বাড়তি ফি নিয়ে থাকে এবং নকল কাগজপত্র তৈরির মতো অসংগত পরামর্শ দেয়। ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সেরা নির্দেশনা হলো আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যগুলো ভালোমতো খতিয়ে দেখা, সহায়ক কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষাতকারের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও সাক্ষাতকারের সময় সঠিক তথ্য ও সত্য উত্তর দেওয়া। আমরা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের সতর্ক করতে চাই যে—মিথ্যা তথ্য ও কাগজপত্রের ফলে শুধু ভিসা প্রত্যাখ্যানই নয়, ভবিষ্যতেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।

ভিসা সাক্ষাতকারের জন্য ট্রাভেল এজেন্সি বা পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে নাথান ফ্লুক বলেন, আপনি সরাসরি আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে পারেন। এজন্য কোনো বাড়তি খরচ নেই; সব কিছু আবেদন ফি-এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে।

করোনা মহামারির কারণে ভিসা সাক্ষাৎকার বন্ধ থাকায় প্রচুর আবেদন আটকে যায় বলে সাক্ষাতকারের সময় পেতে দেরি হচ্ছে আবেদনকারীদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিসা সাক্ষাতকারের সময় পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দুই বছরও। এমন অবস্থায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানালেন কনসাল জেনারেল। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে আমাদের কনসুলার সদস্যরা সপ্তাহান্তেও কাজ করেছেন এবং অভিবাসী ও অনভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ কর্মদিবসে, যেটিকে আমরা ‘সুপার ফ্রাইডে’ বলি। এই সুপার ফ্রাইডেগুলোতে, আমরা শিক্ষার্থী ও পর্যটকসহ ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি অনভিবাসী এবং প্রায় ৬০০ অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছি অপেক্ষার সময় কমানোর জন্য।

ভিসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরামর্শ দিয়ে নাথান ফ্লুক বলেন, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ৭ হাজার ৪০০ এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান করেছে, যা গত দশকে অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে বেশি। সম্ভাব্য শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ে তাদের শিক্ষাক্রম শুরু করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা সাক্ষাৎকারকে অগ্রাধিকার দেয় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। আমরা যত বেশি সম্ভব যোগ্য শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কাজটি চালিয়ে যাব, একইসঙ্গে বি১/বি২ পর্যটক ও বাণিজ্য ভিসার মতো অন্যান্য বিভাগের ভিসার জন্য অপেক্ষার সময় কমানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাব।

শিক্ষার্থীকে পুনরায় আবেদনের সময় অবশ্যই নতুন আবেদনপত্র ও ছবি জমা দেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় আবেদনের ফি প্রদান করতে হবে এবং নতুন করে সাক্ষাতকারের দিন-সময় নিতে হবে বলে জানান মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল নাথান ফ্রুক।