মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, শনি, ৯ অক্টোবর ২১

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, ভবনের টিন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।\হউপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় মাওলানা মোকছেদ আলী মৌলভী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ওই মাদ্রাসায় সুপারের পদ শূন্য হলে ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর পরিচালনা কমিটি মাওলানা মোকছেদ আলীকে সুপার হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগ পাওয়ার পর তার পছন্দের লোকজন দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন মোকছেদ আলী।

এরপর থেকে আহ্বায়ক কমিটির যোগসাজশে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে থাকেন।\হমাদ্রাসার একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর মাদ্রাসার পিয়ন আবুল হোসেন মারা যান।\হপরে প্রতিষ্ঠানের সবার সম্মতিক্রমে আবুল হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়াকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অথচ সুপার মোকছেদ আলী চাকরি দেওয়ার\হকথা বলে বিভিন্ন সময় শাহীনের কাছ থেকে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।\হশাহীনের অভিযোগ, ‘সুপার হুজুর পিয়ন পদে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় আট লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি একে একে ছয়বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন এবং ডিজির প্রতিনিধির মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন। কিন্তু নিয়োগ না দিয়ে টালবাহনা করতে থাকেন। এদিকে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আমি জমিজমা বিক্রি করে সুপারকে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। এখন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বড় কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।’

এ ছাড়া মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকরা জানান, করোনাকালে মাদ্রাসা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সুপার মাদ্রাসার টিনের চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সেশন ফি আদায়, নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক টাকার বিনিময়ে বিতরণ করেছেন।

এ বিষয়ে সুপার মোকছেদ আলী বলেন, শাহীন আলমের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও নিলামে টিন বিক্রির অর্থ তিনি মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতে খরচ করেছেন। পাঠ্যপুস্তক বিতরণে টাকা নেওয়া এবং সেশন ফি নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।\হমাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল। এখন যেহেতু মাদ্রাসা খুলেছে। তাই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি হলে শাহীন আলমের নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে সমাধান করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্‌ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সুপারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে আমি অবহিত। মাদ্রাসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন খাতের যে টাকা-পয়সা রয়েছে, তা যাতে উত্তোলন করতে না পারেন তিনি, সে বিষয়ে আমি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছি। একটা কমিটি হলে আমি দেখাশোনা করে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এই প্রথম জানলাম। কারও পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.