মাথা থেকে বেশি বেশি চুল যেসব কারণে পড়ে

ডা. জাহেদ পারভেজ।।

মেয়েদের মাথার চুল ঝরে পড়ে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপিসিয়া। মেয়েদের মাথার ওপরিভাগ ও দুপাশের চুল পাতলা হয়ে যায়। এক-তৃতীয়াংশ নারীর এ সমস্যা হয়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২৫টি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। সমস্যা তখনই, যখন দিনে ১২৫টির বেশি চুল পড়ে এবং তা আর গজায় না।

চুল পড়ার ধরন : দুইভাবে চুল পড়ে। একটির নাম অ্যানাজেন ইফফ্লুডিয়াম এবং আরেকটির নাম টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম। নানা ধরনের ওষুধ ও কেমোথেরাপির জন্য যখন চুল পড়লে তাকে বলে অ্যানাজেন ইফফ্লুডিয়াম। আর চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে যাওয়ার নাম টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম। চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে যাওয়া মানে চুল আর বড় না হওয়া এবং একসময় চুল ঝরে যাওয়া।

ঝরে পড়ার কারণ : চুল ঝরে পড়া নারীদের একটি অতি পরিচিত সমস্যা। নানা কারণে চুল ঝরে পড়তে পারে, যেমন-

খাদ্যাভাসে পরিবর্তন : অনেকেই ডায়েট কন্ট্রোল করার জন্য কম খান। এতে তার প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি বিশেষ করে প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে। প্রোটিন চুলের প্রয়োজনীয় উপাদান। এর ঘাটতি হলে চুল পড়ে। খাদ্যতালিকায় তাই মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডালের মতো খাবার রাখুন।

ভিটামিন স্বল্পতা : ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন-ডি’র অভাবে চুল পড়ে। এ দুই উপাদান চুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়। মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারে মেলে ভিটামিন-১২ ও ভিটামিন-ডি। এ দুই উপাদানের ঘাটতি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ : যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া শুরু করেন বা পিল পরিবর্তন করেন, তবে তা চুলের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এসব পিলে প্রোজেস্টেরন হরমোন থাকে, যা চুল পড়ে যাওয়ার কারণ। খাওয়ার আগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানতে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভধারণ : গর্ভধারণকালে একজন নারীর হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণকালে চুলপড়া স্বাভাবিক বিষয়। গর্ভধারণের ৩-৪ মাস পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। যদি স্থায়ীভাবে চুল পড়ে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

চুলের স্টাইল : বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, চুলের স্টাইলও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। যদি সবসময় উঁচু করে, শক্ত করে চুল বাঁধেন, তাহলে চুল ভেঙে যেতে পারে, ঝরে পড়া শুরু হতে পারে।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট : চুলে রঙ করা, রিবন্ডিং করা চুল পড়ার কারণ হতে পারে। এছাড়াও শারীরিক অসুস্থতা, যে কোনো অস্ত্রোপচারের পর রক্তস্বল্পতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি, মূত্রনালির প্রদাহ, গর্ভাবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার জন্য পিল খাওয়া, ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ ইত্যাদি কারণে চুল ঝরে পড়তে পারে।

ডায়েট ও চুল পড়া : ওজন কমাতে অতিরিক্ত ডায়েট করা অনেক সময় চুল পড়ার কারণ। চুল ঝরে গেলেও আর নতুন চুল গজায় না। শরীর সারাতে ব্যস্ত থাকে; সব শক্তি এবং অনাদরে পড়ে যায় চুল। এসব ক্ষেত্রে চুল পড়তে থাকে তিন মাস। আবার চুল গজাতে সময় লাগে তিন মাস। অর্থাৎ ছয় মাস সময় লাগে চুল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে। শারীরিক ও মানসিক চাপ খুব বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে ছমাসের বেশি সময় ধরে মেয়ে বা ছেলে- উভয়ের চুল পড়তে পারে। তবে হতাশ না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক