মাঠপ্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক।।

মাঠপ্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ডিসি, ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেড়েই চলেছে। এসব অভিযোগ মন্ত্রিপরিষদ শাখা হয়ে যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। কিছু কিছু অপরাধের ঘটনা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হলে ওএসডি করার মাধ্যমে আইওয়াশ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ তদন্তও করছেন নিজ ক্যাডারেরই সিনিয়র কর্মকর্তারা। ফলে নানা কৌশলে অভিযুক্ত জুনিয়র কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এতে একের পর এক অপরাধ উৎসাহিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রশাসন ক্যাডারের ৭৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন ছিল। আগস্ট মাসে সেটা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বর মাসে এসে আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ জন হয়। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে এক মাসের ঊর্ধ্বে ঢাকা বিভাগে সাতটি করে, চট্টগ্রাম বিভাগে একটি করে, রাজশাহী একটি করে, খুলনা তিনটি করে, বরিশাল বিভাগে পাঁচটি করে, সিলেট বিভাগে একটি করে, রংপুর বিভাগে একটি করে মোট ২০টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

তিন মাসের ঊর্ধ্বে ঢাকা বিভাগে ৯টি করে, চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি করে, রাজশাহী একটি করে, খুলনা চারটি করে, বরিশাল বিভাগে ২০টি করে, সিলেট বিভাগে একটি করে, রংপুর বিভাগে একটি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দ্রুত প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হয়। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বলা হয়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে জেলা টাস্কফোর্স পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযান একটি হ্রাস পেয়েছে। যেসব জেলায় অভিযান কম হয়েছে সেখানে জেলা প্রশাসকদের চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেয়া হয়।
আগস্ট মাসের তুলনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সংখ্যা ৯৫২টি হ্রাস পেয়েছে এবং মামলার সংখ্যা দুই হাজার চার হাজার ১০টি হ্রাস পেয়েছে। যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রয়োগসিদ্ধভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখা এবং মোবাইল কোর্টের তথ্য ই-কোর্ট সিস্টেমে প্রত্যেক মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আবশ্যিকভাবে আপলোড করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর আওতায় দায়েরকৃত মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। গত আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা এক হাজার ৩০টি হ্রাস পেয়েছে। আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৩৪৩টি হ্রাস পেয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর আওতায় ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো পাঁচ হাজার ৩৯৯টি এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন হাজার ১৬১ মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব মামলা অতি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হয়।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের অভিযান আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি বৃদ্ধি পেয়েছে, মামলার সংখ্যাও সাতটি বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থদণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা চারজন বৃদ্ধি পেযেছে। কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা দু’জন বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড উভয়দণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা একজন বৃদ্ধি পেয়েছে। আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ দুই হাজার ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ভূমি অধিগ্রহণে মামলার সংখ্যা গত আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ২৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তির আবেদন নিষ্পত্তির সংখ্যা এক হাজার ১৬১টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংক্রান্ত কাজে জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনায় বলা হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান অব্যাহত রাখা এবং সময়মতো ভিজিএফ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় বলা হয়, প্রশ্নপত্র সর্টিংয়ের সময় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা চলাকালীন সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।