মাছ চাষে দেশসেরা এমবিএ পাস তারেক

আবু সালেহ তারেক বিরামপুর পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার এ কে এম শাহাজাহানের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আবু সালেহ ছোট। বাবা অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক। তাঁর বড় ভাই শিক্ষক, মেঝ ভাইও বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। আবু সালেহ ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে এমবিএ শেষ করেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা শেষ করে সরকারি চাকরি করবেন তিনি। তবে আবু সালেহর ইচ্ছা ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। ওই বছরই পৈতৃক তিন বিঘার একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। খামারের নাম দেন মায়ের নামে ‘তাজ অ্যাগ্রো ফার্ম’। মাত্র সাড়ে সাত বছরের মাথায় সফলতার মুখ দেখেন আবু সালেহ।
আবু সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাকরির প্রতি শুরু থেকেই আমার আগ্রহ কম ছিল। এলাকাতে এসেও অনেককে দেখি কাজকর্ম ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি আমাকে নাড়া দেয়। প্রথম যখন মাছ চাষ শুরু করি, এলাকার অনেকে বলত, মাছ চাষই যদি করতে হবে, এত পড়াশোনা করে কী লাভ হলো। প্রথম প্রথম পরিবারেরও কেউ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তবে কিছুদিন পরই বড় ভাইকে পাশে পেয়েছি। মূলত তিনিই অনুপ্রেরণা জোগাতেন।’

শুরুতে একটি পুকুরে পোনা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে নিজস্ব জমিতে ছোট–বড় ৯টি পুকুর ও ইজারা নেওয়া ৪টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন তিনি। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ হেক্টর পুকুরে কার্প–জাতীয় রুই মাছ, শিং, পাবদা, গুলশা ও টেংরা মাছের মোট ৪৬ লাখ পোনা উৎপাদন করেছেন। এ সময় ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বছর শেষে পেয়েছেন ৮৭ লাখ ৭ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মৎস্য বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে জেলার সর্বোচ্চ রেণু সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাজ অ্যাগ্রো ফার্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফার্মটি দিনাজপুরের পোনা ও মাছের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলাতেও পোনা সরবরাহ করছে।

দেশের শ্রেষ্ঠ মাছচাষি হিসেবে স্বর্ণপদক গ্রহণ করছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আবু সালেহ তারেক। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে
দেশের শ্রেষ্ঠ মাছচাষি হিসেবে স্বর্ণপদক গ্রহণ করছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আবু সালেহ তারেক। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে

তাজ অ্যাগ্রো ফার্ম সম্পর্কে বিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাউসার হোসেন বলেন, উপজেলায় ২ হাজার ২০০টি পুকুরে ১ হাজার ৬০০ মাছচাষি রয়েছেন। আবু সালেহ তারেক দেশের মধ্যে প্রথম কম বয়সী তরুণ মৎস্য উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক পেয়েছেন। এই ফার্মে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেণু থেকে পোনা উৎপাদন কর হয়। রোগমুক্ত ও গুণগত মান উন্নত হওয়ায় মৎস্য খামারিদের কাছে এসব পোনার বেশ গ্রহণযোগ্যতা আছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মানদণ্ড যেমন হেক্টরপ্রতি ৭ লাখ পোনা উৎপাদন, খামারের আয়–ব্যয়ের হিসাব, সরকারি রাজস্ব প্রদান, নারীদের কর্মসংস্থানসহ সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এ সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।