মহামারীতে শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণ: জরিপ

প্রকাশিত: ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ১১ মে ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে ঘাটতি কমিয়ে আনতে গিয়ে পরিবারগুলোর শিক্ষা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার তথ্য এসেছে এক জরিপে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রামীণ পরিবারে শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণ। আর শহুরে পরিবারে শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে ১৩ গুণ।

সোমবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ‘কোভিড ইমপ্যাক্ট অন এডুকেশন লাইফ অব চিলড্রেন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন।

শহর ও গ্রামের ছয় হাজার ৯৯ জন অভিভাবকের ওপর টেলিফোনে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিকের ১৯ ও মাধ্যমিকের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখতে না পারার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই হিসাবে প্রাথমিকের ৩৪ লাখ ২০ হাজার ও মাধ্যমিকের ২৫ লাখ শিক্ষার্থী মহামারীর মধ্যে নিয়মিত পড়াশুনার বাইরে রয়েছে।

তবে ৫১ শতাংশ প্রাথমিক ও ৬১ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী কোচিং এবং গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে পড়া চালিয়ে নিতে পেরেছে।

শিক্ষার ক্ষতি কাটাতে এই বিকল্প উপায়ের কারণেই পরিবারগুলোর উপরে শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, শিক্ষার ক্ষতি ও মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যয় নিয়েও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন আছেন। ‘অটো পাসের’ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরের শিক্ষাবর্ষে পাঠানোর কারণে চাকরির বাজার নিয়েও তাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

আগামী ২৩ মে থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

তবে প্রাথমিকের ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যে ক্ষতির কথা জরিপে এসেছে, বাস্তবে ক্ষতি হয়েছে তার চেয়েও বেশি।”

এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বেন বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.