মসজিদে নববীর খতিব হতে যেসব যোগ্য প্রয়োজন

অনলাইন ডেস্ক।।

বিশেষ যোগ্যতার প্রতি খেয়াল রেখে কাবা শরিফ-মসজিদে নববীতে ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়। পবিত্র এই দুই পবিত্র মসজিদের ইমাম ও খতিবদের বিশেষ সম্মানের চোখে দেখা হয়।

সম্প্রতি মক্কা-মদিনায় নিয়োগ পেয়েছেন কয়েকজন নতুন খতিব। এসব খতিব ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি। মক্কা-মদিনার খতিবদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাধান্য দেওয়া হয়, তা তুলে ধরা হল।

শায়খ ডক্টর ইয়াসির বিন রশিদ বিন হুসাইন আল উদয়ানি আদ দাওসারি। তিনি শায়খ ইয়াসির দাওসারি নামে বেশি প্রসিদ্ধ।

২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মসজিদে হারামে ইমাম হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি ২০ বছর সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ একাধিক মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শায়খ দাওসারি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম কারিদের একজন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খ্যাতিমান কারিদের কাছে ইলমে কিরাত শিখেছেন এবং সনদ লাভ করেছেন। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্বও পালন করে থাকেন।

১ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক শায়খ ইয়াসির কোরআন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন বিষয়ক একাধিক বই রচনা করেছেন।

শায়খ ড. ইয়াসির আদ দাওসারি ১৯৮০ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৫ বছর বয়সের আগেই শায়খ বাকরি তাবারাবিশি ও শায়খ ইবরাহিম আল আখদারের কাছে পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন।

পরে ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি তুলনামূলক আইনশাস্ত্রের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. ইয়াসির আদ দাওসারি বর্তমানে বাদশাহ সৌদি ইউনিভার্সিটির সদস্য। মুসলিম যুবকদের গ্লোবাল ইউরোপ সিম্পোজিয়ামের সদস্য।

মাঝখানে তিনি কিছুদিন দ্য জেনারেল সেক্রেটারি অফ প্রিন্স সুলতান ইউনিভার্সিটিতে কোরআনের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কোরআনে কারিম শিক্ষা দিয়েছেন।

সাধারণ রীতি অনুযায়ী, মসজিদে হারামে ইমাম-খতিব হিসেবে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর সবাই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। শায়খ ড. ইয়াসির এতদিন রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। সম্প্রতি তাকেও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

৪৬ বছর বয়সী শায়খ খালিদ মুহান্না ১৩৯৬ হিজরি (১৯৭৬ সালে) সৌদি আরবের আল আহসাতে জন্ম গ্রহণ করেন। সেখান থেকে ১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৮ সালে) তাঁরা রিয়াদে চলে আসেন। তার বাবা শায়খ সুলাইমান মুহান্না রিয়াদ পাবলিক কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ছিলেন। খালিদ মুহান্না তার বাবার ৪র্থ সন্তান।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন মাদরাসায়ে জাবালে নূর থেকে। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন রিয়াদ সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউট থেকে। তারপর মুহাম্মদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪১৮(১৯৯৭ ‍খ্রিস্টাব্দ) হিজরিতে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ২০০৯ সালে ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। শায়খ খালিদ মুহান্না ব্যক্তি জীবনে উমর নামে ছেলে ও দুই মেয়ের পিতা।

২০১৫ সালে রমজান মাসে বাদশাহ সালমান আনুষ্ঠানিকভাবে শায়খ ড. খালিদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল মুহান্নাকে মসজিদে নববীর তারাবির ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেন।এরপর ২০১৯ সালে তাকে মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা করা হয়। সর্বশেষ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ রাজকীয় আদেশে তাকে মসজিদে নববীর খতিব হিসেবে নিয়োগ দেন।

মসজিদ-ই-নববীর নবনিযুক্ত খতিব। ২০১৯ সাল থেকে তিনি মসজিদটির শুধু ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মসজিদে কুবার ইমাম ছিলেন। তার বাবা আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি আরও আগে থেকে মসজিদ-ই-নববীর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শায়খ আহমদ বিন আলী আল-হুজাইফি তার হৃদয়কাড়া কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বেশ বিখ্যাত। তিনি মদিনার তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। এর আগে তিনি মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৪৩৮ হিজরিতে (৩ অক্টোবর-২০১৬ সালে) তাকে মসজিদে নববীর তারাবির ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী দুই বছরেও তিনি মসজিদে নববীর তারাবির ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২০ সালে তাকে মসজিদে নববীর সরকারী ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সূত্র : সৌদি গেজেট, উইকিপিডিয়া,