ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক

প্রকাশিত: ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ, সোম, ৪ জানুয়ারি ২১

আশার খবর হলো, বাংলাদেশ চলতি মাসেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন টিকা পাচ্ছে। সরকার এ টিকা কিনবে।

প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ দেশে আসবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক গণমাধ্যমকে জানান, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসবে। সরকারের প্রটোকল মেনে বেসরকারি হাসপাতালগুলো টিকা আনতে পারবে এবং টিকা দিতে পারবে।

বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারের প্রটোকল মেনে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে এ মুহূর্তে যেহেতু পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ একটাই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ফলে ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের দিকে নজর রাখতে হবে।

কারণ করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত, এর কার্যকারিতা এবং সুষ্ঠু বণ্টনের ওপর নির্ভর করছে করোনার ভবিষ্যৎ। পুরো পৃথিবীর মানুষ একটি টিকার জন্য অধীর আগ্রহে আছে। শঙ্কাও আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, কারা টিকা পাবে তার একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচের কাউকে টিকা দেয়া হবে না।

এ ছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও হাইরিস্কেরি রোগীদের টিকা দেয়া হবে না। এ হিসাবে ৪০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে। এর আগে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভ্যাকসিনের ন্যায্য বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কী কী ধরনের সহায়তা দেয়া যায়, সে বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৬০০ কোটি। প্রত্যেককে করোনা ভ্যাকসিন দিতে হলে অন্তত এক হাজার ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন। কবে নাগাদ বিশ্বের সব মানুষের কাছে করোনা ভ্যাকসিন পৌঁছানো সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

করোনা ভাইরাস হলো বৈশ্বিক অতিমারি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই বিশ্বকে এর সমাধানে একসঙ্গেই কাজ করতে হবে। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তাই। সব দেশ যেন ভ্যাকসিন পায় এবং জনগণকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত করতে পারে।

সম্প্রতি অক্সফাম এক প্রতিবেদনে বলছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলো মোট উৎপাদিত ভ্যাকসিনের ৫১ ভাগ কিনে রেখেছে। তবে আশার কথা, ধনী দেশগুলোর সঙ্গে যেন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোও ভ্যাকসিন পায় সেটি নিশ্চিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে কোভ্যাক্স কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও কার্যকর ২০০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশ অনেকটা স্টেডি অবস্থানে রয়েছে। ধনী ও গরিব রাষ্ট্রের পরিসংখ্যান না দেখে ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

আর যদি এই ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূ-রাজনীতি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তো ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক দেশকেই ভুগতে হবে। পৃথিবীর এ সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির শিকার হোক মানুষ- এমন অবস্থা যেন দেখতে না হয়। মানবিক এ বিপর্যয়ে কোভিড-১৯ টিকা যেন সবাই পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.