ভুয়া কাগজে শিক্ষা প্রকল্পের কোটি টাকা আত্মসাৎ

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ ফরিদপুর সদর এবং ভাঙ্গা উপজেলায় আউট অব চিলড্রেন (পিইডিপি-৪) কর্মসূচির উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও এনজিও’র মাধ্যমে ভুয়া কাগজে শিক্ষা প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাজে অংশ নেয়া কয়েকটি প্রতিযোগী বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্তে দুর্নীতি প্রকাশের পর কাজ সাময়িক বন্ধ এবং একপর্যায়ে হাইকোর্ট কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে একটি প্রতিষ্ঠান কাজের বিল উত্তোলন করে আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভাঙ্গা হাইলাইট ফাউন্ডেশন। গত বুধবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০১৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ন্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি উপজেলায় সংস্থা ও এনজিও’র মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান করা হয়। এতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কিছু শর্ত পূরণের মাধ্যমে কাজ পাবার নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক সলভেন্সি চাইলে ‘এসো জাতি গড়ি’ (এজাগ) নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ভুয়া সলভেন্সি দাখিল করে প্রকল্পের কাজটি হাতিয়ে নেয়। কিন্তু তদন্তে প্রমাণিত হয় প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২৫ লাখ টাকা দাখিল করলেও দেখা যায় ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা।

বিষয়টি নিয়ে হাইলাইট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ এবং পরবর্তীতে আতাউর রহমান বরাবর অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যংক হিসাব চাইলে তাতে তদন্তে দেখা যায়, ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা। এ নিয়ে ২০২২ সালের ৩১শে জানুয়ারি এজাগের মহাপরিচালক নাজমা আক্তারকে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বললে পাঠানো তথ্যে শর্তানুসারে ব্যাংক হিসেবে চাহিদাপ্রাপ্ত টাকা ব্যাংকে স্থিতিবস্থা ছিল না, যা শর্তের পরিপন্থি। কিন্তু অনিয়ম সত্যেও রহস্যজনক কারণে কাজটি চলমান থাকে। পরে মো. শহিদুল ইসলাম মহামান্য হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট পিটিশন দাখিল করলে মহামান্য তা স্থগিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

কিন্তু এ নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূতভাবে কাজটির কার্যক্রম চালিয়ে যায় এবং বিল উত্তোলন করে। তিনি আরও দাবি করেন সংস্থাটি কার্যক্রম চালুর জন্য ভাঙ্গায় কয়েকটি পার্টনারশিপ দ্বারা ৭৭টি শাখা পরিচালিত করে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নিয়েছে। এতে সরকারের নেয়া জনস্বার্থকর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খোন্দকার নাজমুল হাসান, নিয়ামুল হোসেন সৌরভ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

ক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২১/২৩