ভুয়া তথ্য দিয়ে রিট, ধরা পড়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ ভুয়া তথ্য দিয়ে রিট করার দায়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের রফরফ নামের এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে জরিমানার টাকা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট জমা দিতে বলা হয়েছে তাকে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বুধবার এ আদেশ দেন।

শনিবার তা নিশ্চিত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, বয়স এবং কিছুটা মানবিক বিবেচননায় রিটকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ না দিয়ে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মো. ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তিকে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের ‘নিকাহ রেজিস্ট্রার’ হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। ওই বছর ৭ জুলাই কাকচিড়া ইউনিয়নের ‘নিকাহ রেজিস্ট্রার’ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবি করে জেলা রেজিস্ট্রার কার‌্যালয়ে যোগদান পত্র নিয়ে যান রফরফ। কিন্তু ওই ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে মো. ইব্রাহিম যোগ দিয়েছেন জানিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার‌্যালয় রফরফের যোগদান পত্র ফিরিয়ে দেয়। এরপর নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে মো. ইব্রাহিমের নিয়োগ ও যোগদোনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছর ৭ জুলাই হাইকোর্টে রিট করেন রফরফ।

এ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ইব্রাহিমের নিয়োগ স্থগিত করে রুল জারি করেন। ইব্রাহিমের নিয়োগ স্থগিত করায় ওই এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে চলে আসেন রফরফ। এ অবস্থায় জেলা রেজিস্ট্রার কার‌্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে রফরফের জাল নিয়োগের প্রমাণ পান মো. ইব্রাহিম। তখন হাইকোর্টে এসে আবেদন করে রিটে পক্ষভুক্ত তিনি। পরে রফরফের নিয়োগ পত্র জাল দাবি করে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন ইব্রাহিম। রফরফের ভুয়া নিয়োগপত্রের কিছু প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি। গত বছর ২৬ জুলাই আদালত ইব্রাহিম ও রফরফের নিয়োগের বৈধতা যাচাই করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়কে নির্দেশ দেন।

নির্দেশ মতো আইন কর্মকর্তা রফরফের নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর থাকা আইন মন্ত্রণালয়ের ওই সময়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আনোয়ারুল হক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মুরাদ জাহান চৌধুরীর (তিনিও এখন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন রফরফের নিয়োগপত্রটি ভুয়া। পরে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে আদালত জাল-জালিয়াতি ও প্রতরণার দায়ে রফরফের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে রুল জারি করেন। সে রুলটি বিচারাধীন রেখে গত বুধবার এ আদেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতে মো ইব্রাহিমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান। আর রফরফের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে আদেশ নেওয়া বা প্রতরণার জন্য দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮ ধারায় শাস্তির কথা বলা আছে। কিন্তু উচ্চ আদালত পারিপার্শ্বিক নানা দিক বিবেচনায় রফরফকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ আদেশ বাস্তবায়ন করে তাকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আর মো. ইব্রাহিমের নিয়োগ স্থগিত করা আদেশ প্রত্যাহার করায় কাকচিড়া ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে মো. ইব্রাহিমের দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান এই আইনজীবী।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৪/২৩