ভিসি ছাড়াই চলছে ছয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ১৪ এপ্রিল ২১

নিউজ ডেস্ক।।

ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই দীর্ঘদিন। উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কাজ। এছাড়া আগামী জুনের মধ্যেই শূন্য হচ্ছে আরো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ।

জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ২৯ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ৩১ জানুয়ারি হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আর ৪ মার্চ শূন্য হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় ৩০ মার্চ। ২৩ মার্চ শূন্য হয় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্যের পদ।

বাউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসিম বানু অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ অবসরে যাওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো মশিউর রহমান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মত্ হোসনে আরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। হাজী মো. দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত।

এছাড়া আগামী ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জুন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ মে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জুন এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ১০ জুন মেয়াদ শেষ হবে।

নতুন করে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনিয়র অধ্যাপকদের ১০ শতাংশকে নিয়ে তালিকা করা আছে। উপাচার্য নিয়োগে সেই তালিকা বিবেচনায় আছে। এর বাইরে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কয়েকজন অধ্যাপক আছেন যারা তদবির না করলেও আলোচনায় আছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন উপাচার্য না থাকার কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ভিসির রুটিন দায়িত্বে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে একরকম অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পবিপ্রবির উন্নয়নের জন্য একনেকে ৪৫১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতির কারণে সদ্য বিদায়ি ভিসি ড. মো. হারুন অর রশীদ টাকা ছাড় করিয়ে কাজ শুরু করে যেতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনা করে অধিকাংশই মনে করেন পবিপ্রবির শিক্ষকদের মধ্য হতেই যার সুদীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসন সামলাতে পারবেন, এমন কাউকেই সরকার ভিসি নিয়োগ দিবে।

এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার জন্য বেশ কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া,

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ শূন্য আছে, সেখানে অচিরেই নিয়োগের কাজ শেষ করা হবে। সূত্রঃ ইত্তেফাক

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.