ভারতের কঠোর সমালোচনায় মাইকেল ভন

শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে যাত্রা শুরু করা, একটা পর্যায়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়া; সাম্প্রতিক সময়ে আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের নিয়মিত চিত্র হয়ে গেছে এটি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে উঠেছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি দলটি। এমন পারফরম্যান্সের পর রোহিত শর্মার দলের কড়া সমালোচনা করলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন।

আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টে ভারতের সবশেষ সাফল্য ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এরপর ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফাইনালে উঠলেও শিরোপার স্বাদ পায়নি তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে সুপার টুয়েলভ পার করতে পারেনি ২০০৭ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

এবার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ভারত। সুপার টুয়েলভে পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতে ওঠে সেমি-ফাইনালে। কিন্তু শেষ চারের লড়াইয়ে স্রেফ উড়ে যায় তারা। তাদের ১৬৮ রান কোন উইকেট না হারিয়ে ১৬ ওভারেই টপকে যায় ইংল্যান্ড।

এই ম্যাচের পর দ্য টেলিগ্রাফে লেখা নিজের কলামে ভারতীয় দলকে সাদা বলের ক্রিকেটে সবচেয়ে কম পারফর্ম করা দল হিসেবে উল্লেখ করেন মাইকেল ভন। তার মতে, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার পর ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে ভারতের কোনো অর্জন নেই।

“৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জেতার পরে তারা আর কী করেছে? কিছুই না। ভারত খুবই পুরনো ধাঁচের সাদা বলের ক্রিকেট খেলছে এবং এটি অনেকদিন ধরে করে আসছে। সাদা বলে ইতিহাসের সবচেয়ে কম পারফর্ম করা দল ভারত।”

২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছর টোয়েন্টিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট শুরু করে ভারত। কিন্তু আইপিএল থেকে তারা আদতে কিছু পাচ্ছে কি-না, প্রশ্ন ভনের।

“আইপিএল খেলতে যাওয়া বিদেশি ক্রিকেটারদের সবাই বলে, এটি তাদের খেলা উন্নত করেছে। কিন্তু ভারত আসলে (আইপিএল থেকে) কী নিতে পেরেছে?”

“আমি স্রেফ স্তব্ধ হয়ে যাই! এত প্রতিভা থাকার পরেও তারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা কোন ধাঁচে খেলছে। তাদের অনেক খেলোয়াড় আছে। কিন্তু কোনো সঠিক প্রক্রিয়া নেই। তাদের এখন সে পথে হাঁটা উচিত। তারা কেন প্রতিপক্ষ বোলারদের প্রথম ৫ ওভারে চেপে ধরার সুযোগ দেয়?”

ভনের দাবি, বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী ও ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করার অনেক বড় ক্ষেত্র থাকায় কেউ সহসা ভারতের সমালোচনা করেন না। তাই তিনি নিজেই দেখিয়ে দিয়েছেন ঠিক কোন কোন জায়গায় ভুগছে ভারত।

“কেউ তাদের সমালোচনা করতে চায় না কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তা হতে হয়, বিশেষজ্ঞরা ভারতে কাজ করার সুযোগ হারানোর চিন্তায় পড়ে যায়।”

“এখন সময় এসেছে সোজাসুজি বলার। তারা তাদের কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের আড়ালে নিজেদের লুকোতে পারে। কিন্তু এখানে বিষয়টি হলো দলগতভাবে সঠিক পথে এগোনো। তাদের হাতে বোলিং অপশন খুবই সীমিত, ব্যাটিংয়ে গভীরতা নেই এবং স্পিনে বৈচিত্র্যের অভাব।”