ভাঙা হবে কমলাপুর স্টেশন !

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৫ নভেম্বর ২০

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) নির্মাণের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টেশনটি উত্তরে সরানোর পরিকল্পনা দিয়েছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান। ফলে বিদ্যমান স্টেশন ভবনটি ভাঙা পড়বে। ২৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার রেল ভবনে এ–সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের শেষ স্টেশনটি পড়েছে কমলাপুর স্টেশনের ঠিক সামনে। মেট্রোরেলের পথ (রুট) পরিবর্তিত হবে নাকি কমলাপুর স্টেশন সরানো হবে, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার বাড়িয়ে কমলাপুর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। এরপর রেলও আনাপত্তি দিতে রাজি হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা মতে, এমআরটি-৬ লাইনের শেষ স্টেশনটি হবে বিদ্যমান কমলাপুর স্টেশনের প্রবেশপথ সংলগ্ন। এতে নানন্দিক কমলাপুর স্টেশন ঢাকা পড়বে। তাই পুরো স্টেশনটিই ১৮০ মিটার উত্তরের শাহজাহানপুরের দিকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব এসেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। গতকাল মঙ্গলবারের বৈঠকে রেলমন্ত্রী নুরুল সুজন, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মূলত ২০১৮ সালে সরকারি–বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব করার প্রকল্প সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। এর আওতায় কমলাপুর স্টেশনের চারপাশে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। থাকবে হোটেল, শপিং মল, পাতাল ও উড়ালপথ। বহুতল আবাসন ভবনও নির্মাণ করা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের কাজিমা করপোরেশন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করবে কাজিমা করপোরেশন।

এ বিষয়ে রেলের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলা হবে, যা শাহজাহানপুরসহ আশপাশের রেলের জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান কমলাপুর রেলস্টেশনের আদলেই নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাঁচ বছরের মধ্যেই কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়ন শেষ হতে ১০ বছর লাগতে পারে।

তিনি আরো জানান, মেট্রোরেলের কারণে কমলাপুর স্টেশন আড়ালে পড়ে গেলে এর সৌন্দর্য আর থাকবে না। তাই সরিয়ে নেয়াই উত্তম বিকল্প।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.