ভর্তি আবেদনে ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক।।

মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির অনলাইন ফরম পূরণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের। টেলিটকের ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যায় পড়ছেন তারা। সার্ভারের ধীরগতির কারণে আবেদন করতেও সময় বেশি লাগছে। শুধু টেলিটক মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ফি পরিশোধ করতে হয়, এজন্যও বাড়তি সময় লাগছে। একজন আবেদনকারীর কী কী তথ্য উপাত্ত লাগবে- সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের। অনেকে নিজ এলাকার কাছাকাছি পছন্দের স্কুলের নাম পাচ্ছেন না।

কদমতলা পূর্ব বাসাবো উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেলিটকের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সপ্তম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। মাদারটেকের বাসিন্দা ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোস্তফা কামাল জানান, মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে

আবেদন করে ফি পরিশোধ করতে গেলে টেলিটক থেকে ‘এরর’ বার্তা দিচ্ছে। একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে দুই/তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও আবেদন সম্পন্ন হয়নি। শেষ পর্যন্ত আবেদন সম্পূর্ণ না করেই দোকানিকে পারিশ্রমিক ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। দোকানি জানিয়েছেন টেলিটকের সার্ভারে সমস্যা।

বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক রতন চন্দ্র শীল জানান, মেয়েকে ভর্তি করতে বাসার কাছের দুটি স্কুল পছন্দ ছিল তার। কিন্তু এর একটি হচ্ছে সরকারি বাংলাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, অন্যটি বেসরকারি কে এল জুবিলি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ফলে সরকারি-বেসরকারি দুটো প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে আবেদন করা যাবে কিনা তা জানতে পারছেন না তিনি। আবেদন করতে হলে কী কী কাগজপত্র নিয়ে বসতে হবে তা-ও জানা নেই। তার অভিযোগ, কয়েক কোটি শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, কিন্তু এ নিয়ে কোনো প্রচার নেই শিক্ষা প্রশাসনের। একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই যেন সব দায়িত্ব শেষ। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তারা চিন্তা করেন না।

শফিউল ইসলাম থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। মেয়েকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করবেন। এর বাইরে অন্য স্কুল সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তিনি আর পাঁচটি স্কুল পছন্দক্রম দিতে পারছেন না। এখন একটি আবেদন দিয়ে তার সন্তান লটারিতে ভর্তির সুযোগ পাবে কিনা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা শাহানা বেগম জানান, আগে ইচ্ছে করলে একটি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো। এখন পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল হয়েছে, এটি একদিকে ভালো। কিন্তু লটারি ভাগ্য তো সবার ভালো হয় না। ভাগ্যের ওপর ভর্তি হবে আমার ছেলে, এটি মেনে নিতে পারছি না। আমার পছন্দ ছিল বাসার পাশের ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আদৌ কি এই স্কুলে ভর্তির সুযোগ হবে?

একজন অভিভাবক কীভাবে তার পছন্দের স্কুল নির্ধারণ করবেন? এ প্রশ্নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এবং ঢাকা মহানগরী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব আজিজ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, অনলাইনে আবেদন করার সময় ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুযায়ী একজন প্রার্থী তার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখতে পাবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের সংখ্যা একটু কম হবে। বেসরকারি স্কুল বেশি থাকবে। ধরা যাক, একটি থানায় ৭ থেকে ৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল আছে। কিন্তু সরকারি স্কুল হয়তো সর্বোচ্চ দুটি থাকতে পারে। কোনো আবেদনকারী একই স্কুলের প্রভাতি ও দিবা- উভয় শাখা পৃথকভাবে নির্বাচন করলে তার আবেদন হিসাব করা হবে দুটি। অর্থাৎ, সে একটি স্কুলের দুটি শাখায় আবেদন করল।

ক্যাচমেন্ট এরিয়ার স্কুলের তালিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আগে জানার সুযোগ নেই। এটি টেলিটকের ওয়েবসাইটে আবেদন করার সময় আবেদনকারী দেখতে পারবে। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাইরের কোনো স্কুলে আবেদনের সুযোগ মিলবে না। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে সেটি টেলিটক সমাধান করবে। এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। আমরাও চাই কোনো অভিভাবকের যেন ভোগান্তি না হয়। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা।

ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। স্কুল থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ করা হচ্ছে না। শুধু অনলাইনে মংধ.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ এই ঠিকানায় আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ চলবে ৮ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন ফি নেওয়া হচ্ছে ১১০ টাকা। এ টাকা শুধু টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস এর মাধ্যমে দিতে হবে। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ১৫ ডিসেম্বর অনলাইনে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই হবে। একইভাবে বেসরকারি স্কুলে বাছাই হবে ১৯ ডিসেম্বর।