বড় হচ্ছে পদোন্নতি বঞ্চিতদের তালিকা

 নিউজ ডেস্ক।।

প্রশাসনে যুগ্মসচিব পদে খুব শিগগিরই পদোন্নতি হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার না হলে আগামী রোববার এ বিষয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এবার তিন শতাধিক কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির প্রস্তাব গতকাল সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এত করে পদোন্নতিবঞ্চিতদের তালিকা এবারো বড় হচ্ছে। যদিও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাবের তথ্যে রয়েছে অনেক গরমিল। চলতি বছর গত ২৯ জুন উপসচিব থেকে ৮২ জন কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দিতে এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা সভা কয়েক দফা অনুষ্ঠিত হয়ে পদোন্নতি প্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির কাজ চলছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ। আজ না হলে চলতি মাসের যে কোন সময় পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এবারের পদোন্নতিতে বিসিএসের ২০তম ব্যাচের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্মজীবনের সব নথিপত্র আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব ইনকিলাবকে বলেন, যারা মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমস্যা হয় না। কারণ দেশের সেরা অফিসারদের বেছে বেছে এখানে আনা হয়। তারাই সারা দেশের প্রশাসন পরিচালনায় অবদান রাখেন। কিন্তু মাঠ প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় যারা ভালো কাজ করেন তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। এ সমস্যা প্রশাসন আজও মুক্ত হতে পারছে না। এছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতিবঞ্চিত করার অভিযোগ তো সব সরকারের সময়ে বিদ্যমান। বিভিন্ন সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ ও অসত্য প্রতিবেদনের কারণেও অনেক মেধাবী কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত হতে হচ্ছে সব সময়।

জানা গেছে, প্রশাসনে উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিতে নিয়মিত হিসেবে ২০তম ব্যাচের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হলেও এর বাইরে ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ গোপণীয় প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকরা ৯ মের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। তবে পদোন্নতির জন্য দুই ব্যাচকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডার থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আগে পদোন্নতিবঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। এবার যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য উপসচিব পদমর্যাদার ৩৮৯ জন যোগ্য কর্মকর্তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০তম ব্যাচের নিয়মিত ২৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। একই ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিত (লেফট আউট) ৫২, বিভিন্ন সময় পদোন্নতিবঞ্চিত ১৩৪ ও অন্যান্য ক্যাডারের ১৭৯ জন কর্মকর্তা বিবেচনায় রয়েছেন। এ পদে গত বছরের ২৯ অক্টোবর ২০তম ব্যাচের আংশিক পদোন্নতি দেওয়া হয়। অবশিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য তথ্য চেয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়ের এপিডি শাখা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ, সিআর, শৃঙ্খলা ও পিএসিসি শাখায় চিঠি পাঠানো হয়। যুগ্মসচিবের পাশাপাশি উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আগ্রহী বা যোগ্য বিভিন্ন ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য ২৮ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬৩ জন কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যাচের রয়েছেন ১৬৪ জন। ইকোনমিক ক্যাডারের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে ৪৫ জনকে। বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি বঞ্চিত (লেফট আউট) ১৫৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছর অবসরের কারণে সচিবের ১১ পদ ফাঁকা হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিবদের পদোন্নতি দিয়ে ১১টি পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। শূন্য হতে যাওয়া এসব পদ পাওয়া নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। অবসরের সময় হওয়ায় কোনো কোনো সচিব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।