ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ৬ এপ্রিল ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে এবার এক ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। সম্প্রতি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মানিলন্ডারিং মামলায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জ্ঞিাসাবাদ করা হয়। আলোচিত এই ব্যাংক কর্মকর্তার নাম আতিকুল হাসান ওরফে লিটন। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর গত সপ্তাহে তাকে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, মেডিক্যালের প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভুঁইয়া ওরফে মুন্নুর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফাঁস করা প্রশ্ন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। জসীমের কাছ থেকে উদ্ধারকৃ করা গোপন একটি ডায়েরিতে চক্রের সদস্য হিসেবে আতিকুল হাসান লিটনের নাম লেখা ছিল। তার ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং সম্পদের খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

সিআইডি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল হাসান জানিয়েছেন, তার গ্রামের বাড়ি সাভারে। পিতার নাম শাহাদত আলী। মায়ের নাম গোলেনুর বেগম। তার বাবা শিক্ষক ছিলেন। মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম ছিল তার বাবার ছাত্র। সেই সূত্রে জসীমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেডিক্যালে ভর্তির সময় এলেই জসীম তার কাছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী চাইতো। তার অনুরোধে বিভিন্ন সময়ে কিছু শিক্ষার্থী দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

জানতে চাইলে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং মামলাটি তদন্ত করছি আমরা। তদন্তে অনেকেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুল হাসানও রয়েছেন। তাকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার সম্পদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

সিআইডি সূত্র আরও জানায়, কেবল ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুল হাসানই নয়, এই চক্রে ভিন্ন আরেকটি ব্যাংকের আরও একজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকও এই চক্রের হয়ে কাজ করতেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

যোগাযোগ করা হলে ব্র্যাক ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের সহযোগী ব্যবস্থাপক রাফিদ জাকি সুয়েল জানান, আতিকুল হাসান ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ইন্টার-ব্যাংক ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ওই বিভাগের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ এবং ২০ জুলাই মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া, পারভেজ খান, জাকির হোসেন ওরফে দিপু, মোহাইমিনুল ওরফে বাধন ও এস এম সানোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এ সময় জসীমের কাছ থেকে দুই কোটি ৪৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পরপরই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিশাল এক সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই মামলার সূত্র ধরেই মাস দুয়েক আগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধানমন্ডি থানায় একটি মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.