ব্যাংকের ৭৭১টি পদের পরীক্ষা স্থগিত চান প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ৮:২০ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ২৭ নভেম্বর ২০

নিউজ ডেস্ক।।

আগামী ৫ ডিসেম্বর সমন্বিত ৭ ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি তুলেছেন প্রার্থীরা। দেশে করোনার সংক্রমণ কমে আসলে পরীক্ষা নেয়ার দাবি তাদের। তবে চাকরিপ্রার্থীদের অনেকে পরীক্ষা নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

প্রার্থীরা বলছেন, দেশে শীত শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকির। কেউ যদি পরীক্ষা দিতে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাহলে তার দায় ভার কে নেবে। এছাড়া অনেকেই ঢাকার মেস ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। বর্তমানে তাদের রাজধানীতে এসে থেকে পরীক্ষা দেয়ার মতো অবস্থা নেই। ৫ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেয়া হলে অনেকেই এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝিনাইদহের এক প্রার্থী বলেন, দেশে এখন করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। ৭ ব্যাংকের পরীক্ষায় আবেদন করেছে ১ লাখ ৪০ হাজার জন। তাদের মধ্যে যারা নারী প্রার্থী আছেন তাদের অভিভাবকরাও পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের সাথে আসবেন। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ লোকের সমাগম হবে। এতে অনেকেই সংক্রমিত হবেন। এই অবস্থায় পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত অমানবিক।

বগুড়ার আরেক প্রার্থী জানান, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা আয়োজনের কোনো মানেই হয় না। গত ৮ মাস ধরে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। সেখানে আর কয়েক মাস স্থগিত রাখলে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু পরীক্ষা দিতে এসে যদি কেউ সংক্রমিত হয় তাহলে তার দায়-দায়িত্ব কেউ নেবে না। ফলে পরীক্ষা পেছানোটাই যুক্তিযুক্ত হবে।

এদিকে, চাকরিপ্রার্থীদের বড় একটি অংশ পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। তারা বলছেন, পরীক্ষার তারিখ যেহেতু ঘোষণা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে পরীক্ষা নেয়া উচিৎ। পরীক্ষাটি স্থগিত হলে তা কয়েকমাস পিছিয়ে যাবে। এছাড়া বেকার অবস্থায় অনেকে হতাশায় দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন। ফলে যেকোনো মূল্যে পরীক্ষার হওয়ার পক্ষে তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব আরিফ হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ নভেম্বর সাত ব্যাংকের ৭৭১টি সিনিয়র অফিসার পদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)। সরকারের কাছে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি চাইলেও এখনো অনুমতি মেলেনি। এরই মধ্যে গত ২৩ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র ও আসন বিন্যাস প্রকাশ করে বিএসসি। এর পরই পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছেন প্রার্থীরা।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকার ৬৭টি কেন্দ্রে এক লাখ ৪০ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন বলে জানানো হয়। ৭৭১টি পদে নিয়োগ পেতে ৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার পরীক্ষা দেবেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এ ঘণ্টার পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

এই সাত ব্যাংক হলো সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশ ও কর্মসংস্থান ব্যাংক।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.