বোরকা ছাড়া মেয়েদের স্কুলে না পাঠাতে নির্দেশনা চেয়ারম্যানের

কোনো অভিভাবক নারী শিক্ষার্থীদের বোরকা ছাড়া স্কুলে পাঠাবে না। যারা পাঠাবে তাদের নামের তালিকা করা হবে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে মোবাইল নিয়েও আসতে পারবে না। এছাড়া স্থানীয় বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে গানবাজনাতেও দেয়া হয়েছে জরিমানার হুশিয়ারি। কারো যদি একান্তই গান শোনার ইচ্ছে হয় সে যেন ইয়ারফোন দিয়ে শোনে।

সম্প্রতি এমনই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর নামে মঙ্গলবার এ ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সাইফুল্লাহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টা।

স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের এই বার্তা এক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা শেয়ার করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “কাদিরা ইউনিয়নের বিয়ের অনুষ্ঠানে কোনো গানবাজনা চলবে না। যদি চলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। বাজারে কোনো গানের আওয়াজ যেন না শুনি। তোমার মন চাইলে কানে ইয়ারফোন দিয়ে শোন, আরেকজনকে শুনাইও না। যারা বক্স ভাড়া দাও, মনে রেখ এমন বাজেয়াপ্ত হবে কোনো দিন ফিরে পাবে না।… কোনো অভিভাবক বোরকা ছাড়া মেয়েদের স্কুলে পাঠাবেন না। যাঁরা পাঠাবেন তাঁদের তালিকা করব। কী ব্যবস্থা নিই, সেটা পরে দেখবেন। স্কুলে কোনো ছাত্র-ছাত্রী মোবাইল নিতে পারবে না। মোবাইল বাড়িতে চালাবে। অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ খেয়াল রাখবেন।”

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আতহারুল মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে গত ১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি খালেদ সাইফুল্লাহ সেখানেই গানবাজনা ও বোরকা পরা সংক্রান্ত বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘রাতে উচ্চৈঃস্বরে গানবাজনা চালানো হলে মানুষ ঘুমাতে পারে না। এ জন্য রাতে গানবাজনা না চালানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে। মানুষ অভিযোগ দিলে জরিমানা করা হবে। যেহেতু চেয়ারম্যান হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা সম্ভব। আমার ফেসবুক আইডি নেই, কে বা কারা আমার নাম দিয়ে ফেসবুক চালাচ্ছে।’

কমলনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, চেয়ারম্যান জানিয়েছেন “ফেক আইডি থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দেবেন।”