বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কায় শেষ হলো বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা

নিউজ ডেস্ক।।

বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কায় শেষ হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বোর্ড অব গভর্নরসের বার্ষিক সভা। চলমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্ব ব্যাংক। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস মনে করেন, মানবতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেই দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব।

গত সোমবার (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হয়ে সাত দিনব্যাপী এ সভা শেষ হলো রোববার (১৬ অক্টোবর)।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন জুড়েই আলোচনার বিষয় ছিল বিশ্ব মন্দা ও খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা। বিশ্ব মন্দা আর দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে সহযোগী দেশগুলোর জন্য ১৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছে বিশ্বব্যাংক। যার মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হবে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে।

বিশ্বব্যাংক প্রধান ডেভিড ম্যালপাস মনে করেন, আসছে বছরের সংকট এড়াতে চাইলে সবাইকে মানবিক হতে হবে। মানবতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেই দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসির এ বার্ষিক সভায় বাংলাদেশও ছিল আলোচনার অংশ। করোনার পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে ১৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশকে।

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্সি টেম্বন জানান, চলমান সংকট উত্তরণে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বব্যাংককে পাশে পাবে বাংলাদেশ।

১৮৮ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট ও সমাধানের নানা বিষয় আলোচনার মধ্যদিয়ে শেষ হলো ৭ দিনের বৈশ্বিক সম্মেলন।

বিশ্বের ১৮৮টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এতে অংশ নেন। এ ছাড়া যোগ দেন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা।

এবার ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান, ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আবদুল বাকী, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

১৯৪৬ সাল থেকে প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরপর দুই বছর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তৃতীয় বছর হয় অন্য কোনো সদস্য দেশে। বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যরা নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন এতে। এই আয়োজনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কমিটির বৈঠক এবং গভর্নরদের অংশগ্রহণে প্ল্যানারি সেশনের আলোচনাও হয়।