বেশি দামেও মিলছে না আমদানি পণ্য

নিউজ ডেস্ক।।

খুচরা বাজারে বেশি দামেও মিলছে না আমদানি করা পণ্য। যেগুলো মিলছে তাতে পণ্য অনুযায়ী দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু এর পরও সামনের সময়ে পণ্য মিলবে কি না এ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল একাধিক সুপারসপ ও আউটলেট ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, সবচেয়ে বড় কারণ অস্থিতিশীল ডলারের বাজার। ডলার সঙ্কটে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলায় জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও আমদানি-রফতানি ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্য পরিবহনে সমুদ্রপথে জাহাজ ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে।

রাজধানীর সুপারশপ মিনাবাজারের ম্যানেজার জানান, তাদের এখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। কিন্তু দেশীয় পণ্য ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে তারা এখন সঙ্কটে পড়েছেন। ইতোমধ্যে শিশুখাদ্যসহ যেসব পণ্য শেষ হয়ে গেছে সেগুলো আর মিলছে না। আবার কিছু পণ্য পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত নয়। আমদানিকারকদের কাছে চাইলেও তারা সরবরাহ করতে পারছেন না। যা দিচ্ছেন তা পর্যাপ্ত নয়।

এই কর্মকর্তার মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধির সাথে প্রতিটি পণ্যের দাম ৫ থেকে ৭ গুণ বেড়েছে। ফলে যা পাচ্ছেন তা বাড়তি দামে বিক্রি করেও সংকুলান হচ্ছে না। আবার নেসলে দুধ, চকোলেটসহ কিছু পণ্য অতিরিক্ত দামেও মিলছে না। ফলে সামনের দিনগুলোতে তারা সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন।

তামান্না ফার্মেসির সহকারী ম্যানেজার তোহিদ জানান, তাদের এখানে ওষুধের সাথে তারা শিশুখাদ্য কসমেটিক্সসহ প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী বিক্রি করেন। কিন্তু সময়ের সাথে বিক্রি করা পণ্য নতুন করে কম পাচ্ছেন। তিনি জানান, আমদানিকারকরা জানিয়েছেন এলসি সমস্যায় তারা পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। ফলে এখন পর্যন্ত স্টকে থাকা কিছুপণ্য বিক্রির মাধ্যমে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি রাখতে পারলেও স্টক শেষের পর কি অবস্থা হবে তা বুঝতে পারছেন না।

তৌহিদ জানান, এখন যেসব পণ্য আসছে তার প্রতিটিরই দাম বেশি। কোনো কোনোটায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় পণ্য বিক্রি করলেও নামমাত্র লাভে তারা টিকে থাকার লড়াই করছেন।

বেইলি রোডে অবস্থিত শিশুখাদ্যসহ কসমেটিকসের আউটলেট মাদার্স কেয়ারের সুপারভাইজার জান্নাত জানান, গত কয়েক মাসেও তাদের কোনো কনটেইনার আসেনি। তিনি বলেন, ডলার সঙটের কারণে তারা পণ্য আমদানিতে সমস্যায় পড়েছেন। সে সাথে বেড়েছে প্রতিটির দাম। ফলে তারা উভয় সঙ্কটে পড়েছেন। স্টকে থাকা পণ্য দিয়েই এখন চলছে। এরই মধ্যে যেগুলো শেষ হয়েছে তা আমদানি সম্ভব হয়নি।

সামনের সময়ে সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা। ফলে আগামীতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয় কি না তা নিয়ে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, এক মাস ধরে দোকানে শিশুখাদ্য নেই। আমদানিও করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তারা তাদের নিয়মিত ক্রেতা হারাচ্ছেন। অবস্থা পরিবর্তন না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে বলেও জানান তিনি। একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিদেশী পণ্য বিক্রেতা একাধিক দোকানদার।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, পণ্যের যে সঙ্কট তা তারা মনে করছেন না। তাদের ধারণা একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ডলার সঙ্কট ও এলসি সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে এভাবে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, এর বাইরেও নিত্যপণ্য ডাল চিনি আটা ও ভোজ্যতেলের মতো আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ভোক্তাদের।